বৃষ্টি হলেই ভবনের ছাদ চুয়ে পানি পড়ে শিক্ষার্থীদের মাথায়, বেঞ্চে ও বইয়ের ওপর। আবার শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের সময় খসে পড়ে ছাদের পলেস্তারা। শ্রেণীকক্ষের দেয়াল, ছাদ, পিলার ও বিমে ধরেছে অসংখ্য ফাটল। দেবে গিয়েছে ভবনের চারটি কক্ষের মেঝে। এমন জীর্ণদশা সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
১৯৪৬ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিশু শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। উপায় না থাকায় ৬২ বছরের পুরনো জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ফলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এ কারণে আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। স্থানীয়রা দ্রুত ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।
পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আয়েশা ও তানজিলা খাতুন জানায়, কক্ষ না থাকায় তাদের পুরনো ভবনে ক্লাস করতে হয়। বৃষ্টি হলে ক্লাস করার সময় ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। মাঝে মাঝে পলেস্তারা খসে পড়ে। ভয় করে কখন মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়ে। এ কারণে অনেক সময় বৃষ্টির দিনে ক্লাসে উপস্থিত হই না।
অভিভাবক সাইফুল ইসলাম বলেন, চারদিকে স্কুলের কত ভবন নির্মাণ হচ্ছে অথচ এ বিদ্যালয়ের একটি ভবন নির্মাণ হচ্ছে না। শ্রেণী কক্ষের সংকটে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ছেলেমেয়েদের পাঠদান করা হচ্ছে। এতে আমরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি। বড় দুর্ঘটনা এড়াতে তিনি দ্রুত ভবন নির্মাণের দাবি জানান।
প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, ২১ শতাংশ জায়গার ওপর অবস্থিত বিদ্যালয়টির দুটি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি নতুন ভবন রয়েছে, যার একটি কক্ষ ব্যবহূত হয় অফিস হিসেবে। বাকি দুই কক্ষে শিক্ষার্থীদের সংকুলান হয় না। ফলে শ্রেণীকক্ষ সংকটের কারণে নিরূপায় হয়ে ১৯৬০ সালে নির্মিত চার কক্ষবিশিষ্ট একটি ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে। এ ভবনটির বিষয়ে একাধিকবার শিক্ষা বিভাগকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে তিনি বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ওই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষকদের পাঠদান বন্ধ রাখার কথা বলেছেন।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আকতারুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান না করায় প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে বলা হয়েছে। শ্রেণীকক্ষ সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে চলতি বছরই বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের বরাদ্দ হতে পারে।










