নির্বাচনে কালো টাকা, পেশিশক্তি আর অনলাইন চরিত্রহনন নারীদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনে সরাসরি ভোটের মাঠে অংশগ্রহণকারী নারীরা।
গতকাল ডেইলি স্টার আয়োজিত এ আলোচনায় পাঁচজন নারী সংসদ প্রার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের একজন অধ্যাপক এবং জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের এক নারী নেত্রী অংশ নেন। তাদের অভিজ্ঞতায় নানাভাবে উঠে আসে—কীভাবে বাংলাদেশের রাজনীতি এখনো গভীরভাবে পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর পাহারায়, যেখানে টাকা, পেশিশক্তি আর ডিজিটাল অপপ্রচার নারীদের পথ রুদ্ধ করে রাখে।
যেখানে নারীদের জন্য সরাসরি ১০০টি আসনের দাবি ও প্রতিশ্রুতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ৮৪ জন নারী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন, আর তাদের মধ্যে মাত্র ৭ জন জয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশ করেছে। সংখ্যার এ বৈষম্য প্রমাণ করে যে সুসংগঠিত বঞ্চনার মাধ্যমে নারীরা এখনো দেশের প্রকৃত ক্ষমতার কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারছেন না বলেও মনে করছেন আলোচনায় অংশগ্রহণকারী নারী নেত্রীরা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও সরাসরি নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জয়ী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নির্বাচনী অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘নিরপেক্ষ প্রশাসনের অভাব ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের আক্রমণাত্মক প্রচারণার মুখে তাকে কঠিন অবস্থান নিতে হয়েছে। আমি যদি ভদ্র থাকতাম, তাহলে আমাকে হয়তো ৫০ শতাংশ ভোট হারাতে হতো। আমাকে আমার কর্মীদের দেখাতে হয়েছে যে আমি তাদের রক্ষা করতে পারি। প্রয়োজন হলে আমি মাস্তান হতে পারি।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা বলেন, ‘সংসদে নারীর উপস্থিতি শুধু সংখ্যায়, ক্ষমতায় নয়। দলগুলো নারী ভোটারদের প্রলুব্ধ করে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয়ার ঘরে তাদের ঢুকতে দেয় না।’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার মন্তব্য করেন, ‘আমাদের সমাজ এখনো নারীদের বোঝা হিসেবে দেখে, নেতা হিসেবে নয়।’
এনসিপির প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ অভিযোগ করেন, ‘দলীয় জোটের কিছু অংশ নারী নেতৃত্বে প্রচারণা চালাতে অস্বীকার করে, এতে হাজারো ভোট হারাতে হয়।’
জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য হাবিবা আখতার চৌধুরী জানান, নারী কর্মীদের ওপর হামলার ভিডিও কমিশনে জমা দিলেও তারা ছিলেন উদাসীন।










