বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক সম্পর্ক বহুমাত্রিক বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের উত্তাল রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শুধু ‘একটি বিষয়’ কিংবা ‘একটি অ্যাজেন্ডায়’ এ সম্পর্ককে আটকে রাখা যায় না। দুই দেশের সম্পর্কে অস্বস্তি আছে, কিন্তু তা সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সামগ্রিক সম্পর্কের পথে অন্তরায় হবে না। ভারত আর বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দুই দেশ একে অন্যের প্রতি আগের চেয়েও বেশি নির্ভরশীল।’
রোববার ( ১৭ নভেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের একটি সেশনে স্বাগত বক্তব্যে প্রণয় ভার্মা এসব কথা বলেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তৃতীয় "বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন" গত ১৬ নভেম্বর শুরু হয়েছে এবং চলবে ১৮ তারিখ পর্যন্ত। কনভারসেশনে এবারের থিম ‘এ ফ্র্যাকচারড ওয়ার্ল্ড’। এই আয়োজনে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং ভুল তথ্যের ক্রমবর্ধমান বিস্তার, সবুজ শক্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্ববাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সমস্যা, বৈশ্বিক সংঘাত এবং ভূ-রাজনীতির ল্যান্ডস্কেপ ও মানবাধিকার বিষয়গুলো আলোচিত হবে।
প্রণয় ভার্মা মনে করেন, দুই দেশের এ সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থ, সংস্কৃতি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স দুই দেশের সম্পর্ক গভীর করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক একইভাবে একটি সমৃদ্ধ ভারতও বাংলাদেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।’
তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সহযোগী বাংলাদেশ এবং সারা বিশ্বের মাঝে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। গত দুই বছর প্রতিবারই দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফতানি করা হয়েছে। দুই দেশের জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি ও জীবনাচরণ আমাদের এ সম্পর্ককে কতটা প্রভাবিত করে তা হয়তো আমরা নিজেরাও জানি না।’
একই আয়োজনের আরেকটি সেশনে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ পিস এন্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এএনএম মুনিরুজ্জামান বলেছেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশই ভারতের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে কিছুটা অস্বস্তিতে থাকে ভারতের কর্তৃত্ববাদী মনোভাবের জন্য। আর এ সুযোগটা চীন নেবেই। তারা চাইবে এ সুযোগে এ অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করতে।’"
প্রভাব বিস্তারের এ চেষ্টার ফলে ভবিষ্যতে চীনের সঙ্গে অন্যান্য দেশগুলোর সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এএনএম মুনিরুজ্জামান বলেন, ‘ইনভেস্টর বা বড় দেশগুলো বিনিয়োগ করে ও পররাষ্ট্রনীতি সাজায় নিজেদের স্বার্থ চিন্তা করেই। কিন্তু সকল দেশের এ বিষয়ে নিশ্চিত থাকা প্রয়োজন যে তারা ছোট-বড় সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করছে কিনা।’
একই প্রশ্নের জবাবে অপর একজন প্যানেল আলোচক, চায়নার জি লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক আমিনা খান বলেন, ‘বৈদেশিক নীতিতে আসলে সাদা-কালো বলে কিছু নেই। ভবিষ্যতে আমরা ভারতের বদলে অন্য কারো সঙ্গে অস্বস্তিকর সম্পর্কে জড়াবো কিনা তা এখন নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু আমাদের নিজেদের পররাষ্ট্রনীতি এমনভাবে সাজাতে হবে যেন নিজের দেশের স্বার্থ সব সময় অক্ষুণ্ণ থাকে।’
তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত বে অফ বেঙ্গল কনভারসেশনে এবার মোট ৭৭টি সেশন হবে। গবেষক, শিক্ষক, লেখক, সমরবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিকসহ প্রায় ৮০টি দেশের বিভিন্ন পেশার ৮ শতাধিক ব্যক্তি এতে অংশ নেবেন। উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য, এ অঞ্চলে দ্রুত বিকাশমান পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জানা ও বোঝা।










