ঈদুল ফিতরের আগে শেষ কর্মদিবস আজ। শিল্প-অধ্যুষিত এলাকাগুলোর ১৩ শতাংশের বেশি কারখানা আজ মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাদের শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করেনি। 

দেশের আট শিল্প ও শ্রমঘন এলাকায় মার্চের বেতন পেয়েছেন ৮৬ দশমিক ৬১ শতাংশ কারখানার শ্রমিক। শিল্প পুলিশের হালনাগাদ তথ্যে এমনটিই উঠে এসেছে। আশুলিয়া, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, খুলনা, কুমিল্লা ও সিলেট—এ আট শিল্প-অধ্যুষিত এলাকায় মোট কারখানা রয়েছে ৯ হাজার ৪৬৯টি। শিল্প পুলিশের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, ৯ এপ্রিল দুপুর ১২টা পর্যন্ত এসব এলাকার ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ কারখানার শ্রমিক মার্চের বেতন পাননি। ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে ৯৭ দশমিক ১০ শতাংশ কারখানা। 

শিল্প-অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় শ্রমঘন কারখানাগুলো মূলত পোশাক ও বস্ত্র খাতের। আট শিল্প এলাকায় তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সদস্য কারখানার সংখ্যা ১ হাজার ৫৬১। এর মধ্যে ৮২ দশমিক ৫৮ শতাংশ কারখানার বেতন পরিশোধ হয়েছে। ৯ এপ্রিল দুপুর ১২টা পর্যন্ত বকেয়া ছিল ১৭ দশমিক ৪২ শতাংশ কারখানার বেতন। বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে ৯৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ কারখানায়।

শিল্প মালিকরা বলছেন, অন্যবারের তুলনায় এবারের ঈদ সামনে রেখে বেতন পরিশোধে মালিকদের অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কেননা পোশাক কারখানার ক্রয়াদেশ কিছুটা বাড়তে শুরু করলেও দাম অনেক কমিয়ে দিচ্ছেন ক্রেতারা। সার্বিক পরিস্থিতিতে নগদ অর্থের সংকটের প্রভাব পড়েছে বেতন-বোনাস পরিশোধ চিত্রে।

গতকাল সোমবার (৮ এপ্রিল) বিজিএমইএ সভাপতি এসএম মান্নান কচি বণিক বার্তাকে বলেছিলেন, ‘আগামীকাল (আজ) ব্যাংক খোলা রয়েছে, ফলে বেতন-বোনাস পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। আশা করি সব কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ হয়ে যাবে।’  

দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোয় তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের আরেক সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সদস্য কারখানা রয়েছে ৬২৬টি। এর মধ্যে বোনাস দিয়েছে শতভাগ কারখানা। বেতন পরিশোধ করা হয়েছে ৭৩ দশমিক ১৬ শতাংশ কারখানায়। ২৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ কারখানার শ্রমিক বেতন পাননি। 

আট শিল্প এলাকায় বস্ত্র খাতের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সদস্য কারখানা ৩৪৭টি। এর মধ্যে ৮৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ কারখানায় বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। ৯ এপ্রিল দুপুর ১২টা পর্যন্ত বকেয়া ছিল ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ কারখানার বেতন। বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে ৯৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ কারখানায়। 

বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজার) আওতাধীর মোট কারখানা সংখ্যা ৪২৩। এর মধ্যে ৯৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ তাদের শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেছে। বোনাস দেয়া হয়েছে ৯৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ কারখানায়। 

কোনো সংগঠনের আওতায় নেই এমন কারখানা সংখ্যা ৬ হাজার ৪২০। এর মধ্যে ৮৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ তাদের বেতন পরিশোধ করেছে। বোনাস দেয়া হয়েছে ৯৭ দশমিক ১০ শতাংশ কারখানায়। 

ঈদের আগে প্রায় প্রতি বছরই অস্থিরতা দেখা দেয় দেশের শিল্প-অধ্যুষিত এলাকার কারখানাগুলোয়। এবারো বেতন-বোনাস পরিশোধে সমস্যা হতে পারে— এমন ৪১৬টি কারখানা চিহ্নিত করে এ বিষয়ে নীতিনির্ধারক ও শিল্প মালিকদের আগেই সতর্ক করেছিল শিল্প পুলিশ। এ-সংক্রান্ত এক সভায় বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বেশকিছু সিদ্ধান্তও নেয়া হয়। যদিও বেতন-বোনাস পরিশোধ ঘিরে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো গোলযোগের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।