টাঙ্গাইল সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ৬৯ জন। ১ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪৮ দিনে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে চলতি মাসের প্রথম ১৮ দিনেই ১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৯ জন ও আহত হয়েছেন ২৭ জন। এসব দুর্ঘটনার অধিকাংশই ঘটেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যানবাহনের অতিরিক্ত গতি ও কুয়াশার কারণে শীতের শুরুতেই দুর্ঘটনার পরিমাণ বেড়েছে। এক্ষেত্রে যানবাহনের সীমিত গতি ও কুয়াশার সময় যান চলাচল বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৪ ডিসেম্বর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলায় থেমে থাকা যাত্রীবাহী বাসে ট্রাকের ধাক্কায় ছয়জন নিহত এবং ১০ জন আহত হন। ৮ ডিসেম্বর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের কান্দিলা এলাকায় ট্রাকের সঙ্গে সিরাজগঞ্জ থেকে আসা সবজিবোঝাই পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন আরো পাঁচজন।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নভেম্বরে জেলায় ১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সাতজন আর আহত হয়েছেন ৪২ জন। ডিসেম্বরে টাঙ্গাইল সদরে পাঁচ, মির্জাপুরে ছয়, কালীহাতিতে তিন, নাগরপুর ও বাসাইলে একজন করে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৬ জন। এর মধ্যে চারদিনেই ১৪ জন নিহত হয়েছেন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি ২০১৩ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) সভায় অনুমোদিত হওয়ার পর কাজ শুরু করা হয় ২০১৬ সালে। মহাসড়কের চার লেনের কাজ প্রায় শেষের দিকে। শুধু বাকি রয়েছে কয়েকটি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাসের কাজ। কিন্তু চালকদের বেপরোয়া গতি, ত্রুটিপূর্ণ যান এবং অদক্ষতার কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে এ দুর্ঘটনা।
পরিবহন চালকরা জানান, মহাসড়কের এলেঙ্গা হতে টাঙ্গাইল রাবনা বাইপাস পর্যন্ত একপাশের সার্ভিস লেনের কাজ শেষ হয়েছে। আবার রাবনা বাইপাস হতেও মহাসড়কের পশ্চিমের সার্ভিস লেনের কাজ চলছে। কিন্তু পূর্ব বা ঢাকামুখী সার্ভিস লেনের কাজ শুরুই হয়নি। এতে সিএনজি, ছোট ছোট পরিবহন মহাসড়কে উঠে পড়ছে। এতে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটছে।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ঝান্ডা চাকলাদার বণিক বার্তাকে বলেন, গাড়ি পারাপারের সময় ও ঘন কুয়াশার কারণেই মুখোমুখি সংঘর্ষ হচ্ছে। এছাড়া চালকের বেপরোয়া গতি এক লেন থেকে আরেক লেনের ওঠার কারণে আরো বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে থ্রি-হুইলার, সিএনজি, ছোট ছোট পরিবহন মহাসড়কে চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।
তিনি আরো বলেন, এরই মধ্যে আমরা নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) পক্ষ থেকে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের সম্মলেন কক্ষে প্রশাসন, বাস-ট্রাক মালিক ও শ্রমিক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করেছি। বৈঠকে দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকারের বিভিন্ন উপায় আমরা উপস্থাপন করেছি।
গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, দুর্ঘটনা বাড়ছে শুধু চালকদের বেপরোয়া গতি ও অদক্ষতার কারণে। এমনকি বেশির ভাগ চালকই রাতে গাড়ি চালানোর সময় ঘুমিয়ে পড়ার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনের কাজ চলছে। একপাশের সার্ভিস লেনের জন্য সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে গাড়িচালকদের। তবে রাস্তা পারাপারে পথচারীদের আরো সচেতন হতে হবে।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম বণিক বার্তাকে বলেন, বাইপাস টার্নিং পয়েন্ট এলাকায় বেশি দুর্ঘটনা হচ্ছে। এখন ঘন কুয়াশার কারণে যান চলাচল বিঘ্ন ঘটছে। তবে অন্য সময় চালকদের অতিরিক্ত গতিই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। চালকরা অনেক সময় লেন পরিবর্তন করে এবং ওভারটেকিং করেন, যার ফলে দুর্ঘটনা ঘটে।










