বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্ট-সংলগ্ন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নে এসে পড়েছে আকাশ থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া দুটি গোলা। গতকাল সকাল সোয়া ৯টার দিকে এ দুটি গোলা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এসে পড়ে। বান্দরবানের পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়, গতকাল সকালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দুটি যুদ্ধবিমান ও দুটি ফাইটিং হেলিকপ্টার সীমান্ত পিলার ৪০-৪১-এর মাঝামাঝি আকাশে ওড়াউড়ি করছিল। এ সময় যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া দুটি গোলা আনুমানিক ১২০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এসে পড়ে। এ ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
এর আগে গত ২৮ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে ইউনিয়নের তুমব্রু উত্তরপাড়া জামে মসজিদের পাশে পরপর দুটি মর্টার শেল এসে পড়েছিল।
বাংলাদেশ সীমান্তে মিয়ানমারের গোলা পড়ার ঘটনায় দেশটির রাষ্ট্রদূত উ অং কিয়াউ মোকে তলব করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজই দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করার কথা রয়েছে। গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এ কথা জানিয়েছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে আবারো কড়া প্রতিবাদ জানানো হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে দুবার গোলা পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গোলা দুটি বিস্ফোরিত না হলেও গতকাল দিনভর সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার থেকে প্রচুর পরিমাণে গোলাগুলির আওয়াজ ভেসে এসেছে। বিষয়টি নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
জেলা পুলিশের এসপি মো. তারিকুল ইসলামের দেয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল সকালে ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের রেজু আমতলী বিজিবি বিওপি আওতাধীন সীমান্ত পিলার ৪০-৪১-এর মাঝামাঝি স্থানের আকাশে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দুটি যুদ্ধবিমান ও দুটি ফাইটিং হেলিকপ্টার উড়ছিল। এ সময় যুদ্ধবিমান থেকে আনুমানিক ৮-১০টি গোলা ও হেলিকপ্টার থেকে আনুমানিক ৩০-৩৫টি ফায়ার করতে দেখা যায়। সীমান্ত পিলার ৪০ বরাবর আনুমানিক ১২০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যুদ্ধবিমান থেকে ফায়ার করা দুটি গোলা পড়ে। এছাড়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের তুমব্রু বিজিবি বিওপির সীমান্ত পিলার ৩৪-৩৫-এর মাঝামাঝি প্রতিপক্ষ দুই বিজিপির (মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড অব পুলিশ) তুমব্রু রাইট ক্যাম্প থেকে চার রাউন্ড ভারী অস্ত্রের ফায়ার করে, যা চলমান ছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকরী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।










