ফরিদপুর অংশের নদী থেকে দেদারসে বালু উত্তোলন চলছে। যে কারণে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন নদী পাড়ের গ্রামবাসী। বালু উত্তোলনকারীরা জানিয়েছেন, তারা জেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে এ কাজ করছেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ সংক্রান্ত কোনো অনুমতি প্রশাসন থেকে দেয়া হয়নি।
মধুমতি থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে বাগাট ইউনিয়নের মিটাইন ও গোমরাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের সাধারণ জনগণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বাড়তি যোগ হয়েছে নদী ভাঙন। ফলে নদী পাড়ের লোকজন আছেন সম্পদ হারানোর আশঙ্কায়, নষ্ট হচ্ছে তাদের খেতের ফসলও।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মধুমতি চরের কয়েকশ বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। চরের বিস্তির্ণ এলাকাজুড়ে তাদের আবাদ করা বাদাম, মুসুরি, পেঁয়াজ খেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে মধুমতি নদী থেকে শক্তিশালী কয়েকটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। ইতোমধ্যে নদী ভাঙন হচ্ছে, তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে বাড়ী-ঘর, স্কুল, মসজিদ-মাদ্রাসা, কবরস্থানসহ কয়েকশ একর ফসলি জমি। বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয়রা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপিও দেন। কয়েকদিন বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি আবার শুরু হয়েছে বালু উত্তোলন।
তিনি আরো জানান, দীর্ঘ এলাকাজুড়ে বালুর পাইপ বসানোয় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে চরের কৃষকদের। স্থানীয়দের বসত-বাড়ি, ফল-সবজি বাগানের ক্ষতি সাধন হয়েছে। হুমকির মুখে আছে বেশকিছু স্থাপনা। বিষয়টি সম্পর্কে একাধিকবার জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি।
বালু তোলা অব্যাহত থাকলে বর্ষা মৌসুমে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারন করবে বলে জানিয়েছেন কৃষক আকমল শেখ, মহিউদ্দিন মোল্যা, সাহেব আলী নামে কজন স্থানীয়। অবৈধ এ কার্যক্রমের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা। দিন কাটাচ্ছেন দিশেহারা অবস্থায়। মধুমতি চরে লাগানো তাদের বাদাম, মুসুরি, ধনিয়া, পেঁয়াজসহ নানা ফসল নষ্ট হয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে তারাসহ কয়েকশ গ্রামবাসী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এরপর থেকে তারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কুইন কাজী নামে একব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কথা হয়। তিনি নদী থেকে বালু উত্তোলন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। এ প্রতিবেদককে কুইন জানান, তারা ফরিদপুরের জেলা প্রশাসনের কাছ অনুমতি নিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। এ ব্যাপারে আরো জানতে বাগাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মতিয়ার রহমানকে ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি সেটি রিসিভ করেননি।
বালু উত্তোলনে অনুমতি আছে, এ তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে জানতে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসিকুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, বালু উত্তোলনের কোনো অনুমতিই দেয়া হয়নি। কিছুদিন আগে অভিযান চালিয়ে এ কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। তারপরও যদি বালু উত্তোলন করা হয়ে থাকে, ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।










