একের পর এক নিম্নচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীতে অব্যাহত রয়েছে মাঝারি ও ভারি বৃষ্টি। বেশ কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির ফলে আমনের বীজতলায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অন্তত ২৪২ হেক্টর জমির বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া ৯০ হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় আমন উৎপাদনে বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষক। অবশ্য কৃষকদের সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, জেলায় জমি ২০ লাখ ৩৮ হাজার ১১ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদি জমি রয়েছে ১৯ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টর। চলতি মৌসুমে ১৫ হাজার ২০০ হেক্টরে আউশ এবং ১৯ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে আমান ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ৯৫০ হেক্টর জমিতে সবজি ও ৬১২ হেক্টর জমিতে পান চাষ করেছেন কৃষক। পাশাপাশি জেলায় ৩ হাজার ৭৩৯ হেক্টর জমিতে আমন ও আউশ ধানের বীজতলা তৈরি করেছিলেন কৃষক। তবে টানা বৃষ্টির কারণে ২৪২ হেক্টর জমির আমনের বীজতলা ও ৯০ হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষকরা বলছেন, পানিতে ডুবে আছে বিভিন্ন উপজেলার আমন, আউশের বীজতলা ও সবজি খেত। একইভাবে বৃষ্টিপাত হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এখনো ফসলের মাঠে জমে রয়েছে পানি। এতে আমনের বীজতলা, পেঁপে, পান, বেগুন, কলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের কৃষক মঞ্জুয়ারা বলেন, ‘একবার বীজতলা করেছি। বৃষ্টির পানিতে সব নষ্ট হয়ে গেছে। জমে থাকা পানি সেচে আবার বীজতলা করতে হবে। এভাবে বৃষ্টি থাকলে কী হয় বলতে পারি না। খুবই দুশ্চিন্তায় রয়েছি।’
একই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের শারিকখালী গ্রামের বশির সিকদার বলেন, ‘৫০ শতাংশ জমিতে বীজতলা করেছি। পানিতে সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। জমির ওপর নির্ভর করে সংসার চলে। আরো যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে তো ফসল ঘরে তুলতে পারব না।’
কলাপাড়া উপজেলার পাখিমারা গ্রামের কৃষক কামাল হোসেন বলেন, ‘পানিতে সব বীজ ভেসে গেছে। আবার বীজতলা করতে হবে। কবে বীজ পাব বুঝতে পারছি না। যা বিনিয়োগ করেছি, সবই লোকসান হয়েছে।’
এ ব্যাপারে পটুয়াখালী খামারবাড়ির ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক এইচএম শামীম বণিক বার্তাকে বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে ফসলের মাঠে পানি জমে আছে। আমনের বীজতলার কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে তেমন ক্ষতির আশঙ্কা নেই। কৃষকদের উঁচু জমিতে ড্রেন করে বীজতলা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।










