পাবনায় কভিড-১৯ পরীক্ষার পিসিআর ল্যাব এখনো স্থাপিত হয়নি। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। কভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তিরা পরীক্ষার অভাবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিতে পারছেন না, আবার ঘুরছেন জনসমক্ষে। ফলে সংক্রমণ বাড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাবনা মেডিকেল কলেজে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জায়গা নির্ধারণ করা হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়নে কাজটি শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়। প্রায় ছয় মাস আগে কাজটি শুরুর নির্দেশনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে থাকলেও অনুমোদন জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে পাবনার আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপনের ব্যয়ভার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প জোগান দিতে সম্মত হলেও পরে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়। পরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কাজ শুরু করে গণপূর্ত বিভাগ।
ল্যাব না থাকায় পাবনার কভিড পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করে রাজশাহী অথবা সিরাজগঞ্জে পাঠাতে হচ্ছে। এ রিপোর্ট ভুক্তভোগীদের হাতে পেতে পাঁচ-ছয়দিন লেগে যাচ্ছে। ফলে আক্রান্তদের চিকিৎসা নিতে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ল্যাবটির অবকাঠামোর কাজ ৯০ ভাগের মতো শেষ হয়েছে বলে দাবি করলেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল আজিম। ১৫ এপ্রিলের মধ্যে তারা ল্যাবের অবকাঠামো স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
হস্তান্তরের পর ল্যাবের যন্ত্রপাতি স্থাপন, কারিগরি সহায়তা ও জনবলসহ অন্যান্য কার্যক্রম কবে নাগাদ শেষ হবে সেটা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেনি। তবে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. বুলবুল হাসান ও শুভ্র কান্তি দেবনাথ ছাড়া আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপনের ব্যাপারে কলেজের অন্য কোনো ডাক্তারদের সহযোগিতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এমনকি অধ্যক্ষের নির্দশনাও মানছে না অনেকেই।
এ ব্যাপারে পাবনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আমিনুর রহমান বাদল বলেন, পুরনো ঐতিহ্যবাহী পাবনা জেলায় পিসিআর ল্যাব না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা থেকে পাবনাবাসী বঞ্চিত হচ্ছে। রোগটির প্রাদুর্ভাব প্রায় দেড় বছর আগে পরিলক্ষিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে ল্যাবটি পাবনায় স্থাপিত হয়নি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আরিটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপন করে পাবনার জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।










