কোথাও কোমরসমান, কোথাও আবার বুকসমান পানিতে তলিয়ে গেছে সড়কগুলো। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে যানচলাচল।

বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা পড়েন চরম দুর্ভোগে। অনেককে পানি মাড়িয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে দেখা যায়। বেলা ১১টার দিকে বৃষ্টি কম থাকলেও দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে শুরু হয় ভারি বর্ষণ, চলে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত। এতে নগরের নিচু এলাকাগুলো ডুবে যায়।

নগরের প্রবর্তক মোড়, আগ্রাবাদ, হালিশহর, নিউমার্কেট, তিন পুলের মাথা, কাতালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি দেখা গেছে প্রবর্তক মোড় এলাকায়।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া অধিদপ্তরের (পতেঙ্গা) সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. জহিরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৫৯ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। গতকাল দুপুর ১২ থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়। আরো দুই-তিন দিন হালকা থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।’ অন্যদিকে আমবাগান আবহাওয়া অফিস গতকাল সকাল ৬টা-৯টা পর্যন্ত ১০ মিলি, সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ৭৫ মিলি, ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। অর্থাৎ গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম নগরীতে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৯১ মিলিমিটার।

গতকাল দুপুর ১২টা থেকে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরী প্রধান প্রধান এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। জলমগ্ন শহরের সড়কগুলোতে যানবাহনের পরিমাণ ছিল কম। এতে কর্মজীবী মানুষের ভোগান্তি গিয়ে ঠেকেছে চরমে। মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে রিকশা। নগরীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ, চট্টগ্রাম ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় ঝুঁকি নিয়েই জলমগ্ন শহরে যাতায়াত করতে হয়েছে সাধারণ নগরবাসীকে। বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে এলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে কয়েকটি খালের সংস্কারকাজ সম্পন্ন না করে পানি চলাচলের মুখ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে নালার পানি স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বৃষ্টিহীন সময়েও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা স্থায়ী জলাবদ্ধতায় পরিণত হয়েছিল। বিশেষ করে চট্টগ্রামের চকবাজার, কাতালগঞ্জ, প্রবর্তক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক সপ্তাহ ধরে জলাবদ্ধ থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন গতকাল বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ এলাকাগুলো পরিদর্শনে যান। নগরীর মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, প্রবর্তক মোড়, নাসিরাবাদ হাউজিং এলাকায় তিনি জলাবদ্ধতায় ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘‌সিডিএ খাল সংস্কারকাজ চলমান থাকায় এখনো জলাবদ্ধতা সমস্যা রয়েছে। আগামী ১৫ মে’র মধ্যে হিজরা খাল ও জামাল খান খালের সংস্কারকাজ সম্পন্ন হলে চট্টগ্রামের ৭০-৮০ শতাংশ জলাবদ্ধতা নিরসন হবে।