বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা এখন যমুনা নদীর অংশ। বছর বছর ভাঙনের ফলে উপজেলার বেশির ভাগ এলাকা নদীবক্ষে তলিয়ে গেছে। বাঙ্গালী নদী থেকে সৃষ্ট ইছামতী সারিয়াকান্দি হয়ে ধুনট উপজেলায় পুনরায় বাঙ্গালী নদীর সঙ্গে মিশেছে। প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীতে সেতু না থাকায় ১২ গ্রামের মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, নদী পারাপারের ভরসা সাঁকো। গত ১০ বছর কৃষিপণ্য, পরিবহন, উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ, মানুষ পারাপার, ছোট যানবাহন পারাপার করতে হচ্ছে সাঁকো দিয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের জোড়গাছা, দক্ষিণ জোড়গাছা, সাতবেকি, কড়িতল, ধামাচামা, বড়িয়া, ভালুকাতলা, জোড়শিমুল, সুনাহাটা গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম ইছামতীর সাঁকো। ধান, পাট, মরিচসহ কৃষিপণ্য পরিবহনে সমস্যায় পড়তে হয় এলাকাবাসীকে। শুকনো মৌসুমে ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের সঙ্গেই জেলার ধুনট উপজেলার আরো তিনটি গ্রামের মানুষও এ পথ দিয়ে চলাচল ও পণ্য পরিবহন করে। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে তা অসম্ভব হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে স্বস্তি থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে দুর্ভোগের শেষ নেই। ইছামতী নদীর ওপর দিয়ে সহজে চলাচল করতে প্রতি বছর এলাকাবাসী চাঁদা তুলে সাঁকোটি মেরামত করে। মাঝে মাঝে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মেরামত করে দেয়। সাঁকোটি ব্যবহার না করলে বিকল্প হিসেবে সড়কপথ থাকলেও প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে সদর উপজেলায় যেতে হয়।
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. তুহিন সরকার জানান, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ সময় চিঠি চালাচালি চলছে। কিছু দিন আগে ওই এলাকায় সেতু নির্মাণে জাতীয় সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান একটি ডিও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন। অনুমোদন পাওয়া গেলে বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হবে।
সারিয়াকান্দি উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ইউপি সচিব মো. ফেরদৌস হোসেন জানান, ইছামতী নদীর ওপর নির্মিত সাঁকোটি এখন আর আগের মতো মজবুত নেই। প্রায় ১০ বছর আগে নির্মাণ করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সাঁকোটি টিকিয়ে রাখতে বেশ কয়েকবার অনুদান দিয়ে মেরামত করা হয়। সাঁকোর চেয়ে স্থায়ী সেতু নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর যোগাযোগের জন্য স্থায়ী সেতু প্রয়োজন। প্রায় ৩০ হাজার মানুষ চলাচল করে এ পথ দিয়ে। স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে এলাকাবাসী উপকৃত হবে বলে মনে করেন তিনি।










