নান্দনিক নকশা এবং দাম বেশি হওয়ায় জামদানির সঙ্গে আভিজাত্য ও রুচিশীলতা জড়িয়ে রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী নকশা ও বুননের কারণে ২০১৬ সালে জামদানিকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবেও স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। এ শাড়ি মূলত তৈরি হয় নারায়ণগঞ্জে। দেশের একমাত্র জামদানি পল্লীও সেখানে। নারায়ণগঞ্জের পাশাপাশি এবার ফরিদপুরেও গড়ে উঠছে জামদানি শিল্প।
শিল্পটির বিকাশ ঘটানো গেলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরো সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা। এ শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত অথবা কেউ নতুন করে উদ্যোক্তা হতে চাইলে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক।
এক যুগের অধিক সময় ধরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তাঁত শিল্পে কাজ করেছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চাপুলিয়া গ্রামের মোস্তফা রহমান। দুই বছর আগে তিনি গ্রামে ফিরে এসে একটি তাঁত স্থাপন করেন। দুই বছরের ব্যবধানে ছয়টি তাঁতে ১২ শ্রমিক কাজ করছেন।
মোস্তফা রহমান জানান, আর্থিক সহায়তা পেলে এ শিল্পের বিকাশ ঘটানো সম্ভব। কারণ গ্রামাঞ্চলে শ্রমিক পাওয়া সহজ। গ্রামে শিল্পের প্রসার ঘটানো গেলে অলস হাত কাজের হাতে রূপান্তর হবে। প্রতিটি তাঁত থেকে মাসে তিন-চারটি শাড়ি উৎপাদন করা যায়। যার একটি শাড়ির দাম সর্বনিম্ন ১২ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা। প্রতি মাসে উৎপাদিত শাড়ি রূপগঞ্জ বিসিকে বিক্রি করে আসেন। এতে তার লাভ ভালোই হয়।
এক সময় চটপটি বিক্রি করতেন মো. শফিকুল ইসলাম। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় তার লাভ কমে গেছে। পেশা বদল করে কাজ শুরু করেন জামদানি কারিগর হিসেবে। এখন তিনি পরিবার নিয়ে ভালো আছেন বলে দাবি করেন।
অটোরিকশা ছেড়ে জামদানির কারিগর হিসেবে যোগ দেয়া আকিদুল ইসলাম জানান, পথে পথে বিড়ম্বনার শিকার হয়ে পেশার প্রতি অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়। এখন শাড়ির কারিগর হিসেবে ভালো আছেন বলে দাবি করেন তিনি। প্রতি সপ্তাহে ৫-৬ হাজার টাকা মজুরি দিয়ে ভালোভাবেই চলে তাদের সংসার।
এখানকার উদ্যোক্তা আর শ্রমিকদের চিন্তা-চেতনাকে স্বাগত জানিয়ে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক এরই মধ্যে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ওই এলাকা পরিদর্শনের নির্দেশনা দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহ্সান তালুকদার বলেন, ‘এ শিল্পের সঙ্গে যারা জড়িত অথবা হতে চান তাদের সবাইকে সহযোগিতা করা হবে।’










