দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী, সমন্বিত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার লক্ষ্যে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদরদপ্তরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রবাসীদের জন্য উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম সভাপতিত্ব করেন এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদু্জ্জমান মিল্লাত সহ-সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে মন্ত্রী দেশের বিমান খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিটির পূর্ববর্তী ১৩তম সভার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।
আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) অডিট প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এই অডিটের পর্যবেক্ষণের ওপর দেশের ভাবমূর্তি নির্ভর করছে। তাই আইসিএওর সম্ভাব্য সব পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী আরো জানান, ভিআইপি ও সিআইপিসহ সবার জন্যই নিরাপত্তা প্রোটোকল সমান। তাই বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তায় সবাইকে সমানভাবে প্রোটোকল মেনে চলতে হবে। তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা এবং প্রবাসী ভাইদের জন্য উন্নত সেবা দিতে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোনের উড্ডয়ন বন্ধে অ্যান্টি ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রায় ৩ বছর পর আয়োজিত এ সভার সিদ্ধান্তগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন।
একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তায় ব্যবহৃত স্ক্যানার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি চাহিদার চেয়ে বেশি থাকতে হবে। যেকোনো আইনের ব্যত্যয় ঘটলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা বাড়াতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় জোরদার, জাতীয় নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের বিষয়টি উঠে আসে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেমের কার্যকারিতা নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। এছাড়া দেশের সব বিমানবন্দরে জরুরি ও সংকটকালীন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরো কার্যকর করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ওপর জোর দেয়া হয়।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরের এলাকায় যানজট, অনিয়ন্ত্রিত লোকসমাগম, ভিক্ষুকের উপদ্রব এবং অবৈধ লাগেজ র্যাপিং বন্ধে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের তাগিদ দেয়া হয়। শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।










