কুষ্টিয়া জেলায় ১৪৯টি ইটভাটার মধ্যে ১৩২টিই অবৈধ। এগুলো এভাবেই চলছে বছরের পর বছর। এসব ভাটায় ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ফসলি জমি, দেদারসে ব্যবহূত হচ্ছে কাঠ। এ অবৈধ কার্যক্রমে এবার অভিনব এক কৌশল যোগ হয়েছে। ইটভাটাতেই ভ্রাম্যমাণ স’ মিল। ইট পোড়াতে বড় বড় গাছের গুঁড়ি চিরে ভাটায় ফেলা হচ্ছে। সদর উপজেলার বেশ ক’টি ইটভাটা ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসেবে কোনো জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করা যাবে না। অথচ এসব অবৈধ ইটভাটা দিনের পর দিন অবাধে চলছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব ইটভাটা স্থাপন করার কথা থাকলেও সনাতন পদ্ধতিতেই এখনো চলছে।

জেলা সদরের অদূরে তালবাড়িয়ায় খয়বার প্রামাণিকের কেবিপি ইটভাটা, সাব্বির রানার আরপিকে, বারখাদায় আলাল উদ্দিনের এনবিসি এবং এএসএসবি ইটভাটার পাশে স’ মিল বসাতে দেখা গেছে। সদর উপজেলার জুগিয়া, বারখাদা উত্তরপাড়া ও চারুলিয়ায় গড়াই নদীর পাশে শত শত বিঘা সরকারি খাস খতিয়ানের আবাদি জমি দখল করে তৈরি করা হয়েছে এসব ভাটা।

ভাটাগুলোয় সাংবাদিক প্রবেশে রয়েছে বেশ কড়াকড়ি। মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে না এলে প্রবেশ অসম্ভব। তাই ক্রেতা পরিচয়ে কেবিপি ইটভাটা ঘুরে দেখা গেছে ইট পোড়াতে বড় বড় গাছের গুঁড়ি জড়ো করা হয়েছে। ভাটায় কর্মরত এক শ্রমিক বলেন, প্রতি চার লাখ ইট তৈরিতে ২০-২২ দিন সময় লাগে। এতে প্রায় ৩৫ হাজার মণ কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আগে দূর থেকে কাঠ চিরে আনা হতো। এতে সময় ও অর্থ বেশি ব্যয় হতো। যে কারণে ভাটামালিক নিজেই এক করাত বিশিষ্ট স’ মিল স্থাপন করেছেন।

এ বিষয়ে ভাটামালিক খয়বার প্রামাণিক বলেন, তার ভাটার সব কাগজপত্র ঠিক নেই। তবে সবাই যেভাবে চলছেন, তিনিও সেভাবেই চলছেন। এ এলাকাতেই পরপর ১০টি ভাটা রয়েছে। তারা সবাই কাঠ পোড়ায়।

গত ৬ জানুয়ারি ভ্রাম্যমাণ আদালত এসএসবি এবং কেবিপি ভাটার চিমনি ভেঙে দিয়ে যায়। সেগুলো মেরামত না করে টিন দিয়ে চিমনি বানিয়ে আবারো ইট পোড়ানো হচ্ছে।

বারখাদা উত্তরপাড়ায় দুটি ভাটার মালিক আলাল উদ্দিন। দলীয় কোনো পদে না থাকলেও তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দেন। এলাকায় তার প্রভাবও রয়েছে। প্রায় ১০০ বিঘা আবাদি জমি দখল করে তিনি গড়ে তুলেছেন এনবিসি এবং এএসএসবি ভাটা। সেখানেও বসানো হয়েছে স’ মিল।

কুষ্টিয়া নাগরিক কমিটির সভাপতি প্রফেসর ডা. এসএম মুসতানজিদ বলেন, ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও তার বাস্তবায়ন নেই।

কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতাউর রহমান বলেন, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।