দক্ষ নাবিক তৈরিতে ভূমিকা রাখছে সিলেট মেরিন একাডেমি। মাত্র আড়াই বছর আগে শুরু হওয়া একাডেমির দ্বিতীয় ব্যাচ গ্র্যাজুয়েশন প্যারেড সম্পন্ন করেছে। একাডেমিসংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনবল তৈরি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মেরিন একাডেমি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার রাখবে।

মেরিন একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগরীর উপকণ্ঠে চেঙ্গেরখাল নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রতিষ্ঠিত মেরিন একাডেমিতে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। ২০১২ সালে বরিশাল, সিলেট, রংপর ও পাবনায় চারটি মেরিন একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় সিলেটে প্রতিষ্ঠিত হয় মেরিন একাডেমি। একাডেমি স্থাপনের জন্য ২০১২ সালের জুনে ১০ একর জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে ১০৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে সিলেট মেরিন একাডেমির অবকাঠামো নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু হয় ২০১৫ সালের এপ্রিলে। এর আগে মাটি ভরাটসহ অন্যান্য কাজ শেষ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ছোট-বড় ২০টি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়। ২০২১ সালের ৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন।

সিলেট মেরিন একাডেমিতে নির্মিত ভবনের মধ্যে রয়েছে একাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাস, পাঁচটি আবাসিক ভবন, জিমনেসিয়াম, মসজিদ, প্যারেড গ্রাউন্ড, সুইমিং পুল, মেরিন ওয়ার্কশপ, পাম্প হাউজ, সাবস্টেশন ও জেনারেটর ভবন, আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভার, গভীর নলকূপ, কম্পাউন্ড ড্রেন, অ্যাপ্রোচ রাস্তা, সীমানাপ্রাচীর ও শহীদ মিনার।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এ অঞ্চলের শিক্ষা ক্ষেত্রে মেরিন একাডেমি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। এটি শুধু শিক্ষার সহজতাই নয়, উন্নয়ন ঘটবে আশপাশের এলাকাগুলোরও।’

একাডেমির কমান্ড্যান্ট নৌ-প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর জানান, এ বছর দ্বিতীয় ব্যাচের গ্র্যাজুয়েশন প্যারেড সম্প্রতি শেষ হয়েছে। একাডেমি থেকে ৬৭ জন ক্যাডেট দুই বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনবল তৈরি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মেরিন একাডেমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার রাখবে। একাডেমি থেকে গ্র্যাজুয়েশনপ্রাপ্ত ৬৭ ক্যাডেট দেশী-বিদেশী সমুদ্রগামী জাহাজে যোগদান করে দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অবদান রাখবেন।