কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচীর মধ্যে সংঘাত-সহিংসতার ঘটনায় রাজধানীর থানাগুলোতে ৩৮টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এরই মধ্যে ১ হাজার ১১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তবে বিএনপির দাবি এই সময়ের মধ্যে তাদের ২ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ডিএমপি জানায়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে
সামনে রেখে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে পুলিশ সদস্যদের ওপর
হামলা, থানা-ফাঁড়িসহ ট্রাফিক বক্সে হামলা হয়েছে। অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে পুলিশের যানবাহন
এবং বিভিন্ন স্থাপনায়। সহিংসতার এসব ঘটনায় গত সোমবার সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়
ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ৩৮ মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে পাঁচ
হাজারের বেশি লোককে।
এদিকে আজ নিজ দফতরে গণমাধ্যমকর্মীদের
সঙ্গে আলাপকালে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও গোয়েন্দা (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশীদ বলেন,
‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নামে রাজধানীসহ দেশজুড়ে সহিংসতা চালিয়েছে জামায়াত-বিএনপি।
পরিকল্পিতভাবে এই সহিংসতা চালানো হয়। উদ্দেশ্যেমূলকভাবে সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় আগ্নিসংযোগ
করা হয়েছে। অতীতেও আমরা দেখেছি, এ ধরনের আগুন সন্ত্রাস কারা করেছে। এখনো দেখছি, একই
চক্র এমন নাশকতা চালিয়েছে। নাশকতাকারীদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি যারা
এই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নামে সহিংসতায় অর্থায়ন করেছে, তাদের তথ্য আমাদের হাতে এসেছে।
আমরা সব তথ্য যাচাই-বাছাই করছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে
সারা দেশে কোথাও কোথাও আন্দোলনকারী এবং সরকার দলীয় সংগঠন ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে
গত ১৬ জুলাই ছয়জন নিহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ১৭ জুলাই দেশের
সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে ওইরাতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সংঘর্ষে
খুনের দায়ে জড়িতদের বিচার ও সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে পরদিন সারা দেশে ‘কমপ্লিট
শাটডাউন' কর্মসূচি ঘোষণা আসে আন্দোলনকারীদের পক্ষে। আন্দোলনকারীরা ১৮ জুলাই সকাল থেকে
কর্মসূচি পালন করতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও রেল অবরোধ শুরু করে। ওই দিন
আন্দোলনরতদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে
মারা যান ২৭ জন। ১৯ জুলাই মারা যান ৫৮ জন। ২০ জুলাই মারা যান ২৪ জন। ২১ জুলাই মারা
যান ১৫ জন। সবশেষ ২২ জুলাই ৯জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন
অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। বাকি তিনটি মরদেহ নারায়াণগঞ্জ থেকে
উদ্ধার করে পুলিশ।










