যশোরে মাছ উৎপাদন বাড়ছে প্রতি বছরই। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলায় উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯৪ দশমিক ৩৫ টন মাছ। এর মধ্যে পুকুর ও দিঘি থেকে এসেছে ১ লাখ ৫০ হাজার ১৩১ টন। আগের অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৪৫ হাজার টন। এর আগের তিন বছরও বেড়েছে মাছের উৎপাদন। কিন্তু উৎপাদন বাড়লেও বাজারে মাছের দাম ক্রমেই গরিব মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে রুই মাছ কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

বর্তমানে জেলায় ২২ প্রজাতির মাছ চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় রুই। গত বছর রুই উৎপাদন হয় ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৬৫ টন। এছাড়া পাঙাশ ১১ হাজার ৬৩৬ টন, তেলাপিয়া ১৭ হাজার ৯০৫ টন, কৈ ২ হাজার ৭৭৮ টন, শিং-মাগুর ৫ হাজার ৯৩৪ দশমিক ২ টন, গুলশা-পাবদা ১৭ হাজার ৭১৩ টন, গলদা চিংড়ি ৯ হাজার ৫৬০ টন, বাগদা চিংড়ি ৩৫৪ টন, ছোট চিংড়ি ৮৯ দশমিক ৫ টন এবং অন্যান্য প্রজাতির মাছ ১৪ হাজার ৯৭২ দশমিক ৮৮ টন।

মণিরামপুরের মৎস্য চাষী মিলন রহমান বলেন, ‘গত বছর উৎপাদন ভালো হলেও খরচ কমেনি। এখন ২৫ কেজির ফিড বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩৭০ টাকায়, খৈল ৩ হাজার ২০০ টাকায় আর ভুট্টা ৩ হাজার ২০০ টাকায়। আগের তুলনায় কিছুটা কমলেও খরচ এখনো বেশি।’

যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, ‘গত তিন বছরে জেলায় চাহিদার তুলনায় ৫ লাখ টন মাছ বেশি উৎপাদন হয়েছে। খুলনা বিভাগের মধ্যে যশোর উৎপাদনে শীর্ষে।’

কিন্তু উৎপাদন বাড়লেও বাজারের চিত্র উল্টো। বর্ষায় সাধারণত মাছের দাম কমে আসে, অথচ এ বছর বর্ষার শুরু থেকেই দাম বাড়ছে। গত তিন মাসে রুই মাছের দাম কেজিতে বেড়েছে ১২০-১৫০ টাকা। অথচ এ সময় মাছের খাদ্যের দাম কমেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফিডের দাম কমলেও পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ বেড়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও তদারকির দুর্বলতার কারণে এ অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি।

বড়বাজারের মাছবিক্রেতা আবুল বিশ্বাস বলেন, ‘ছয় মাস আগে এক কেজি সাইজের রুই-কাতল প্রতি মণ কিনেছি সাড়ে ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকায়। এখন কিনতে হচ্ছে ১১ থেকে সাড়ে ১১ হাজার টাকায়। ফলে খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে।’

যশোর নাগরিক অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান ভিটু বলেন, ‘বাজারে সবকিছুর দামই বেশি। বিশেষ করে মাছ গরিব মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। সরকারকে বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে এবং মাছ চাষে ভর্তুকি দিতে হবে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রোটিনের উৎস মানুষের নাগালে থাকে।’