ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন সংকট দেখা দিয়েছে। ভ্যাকসিন না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে খামারিদের। তাদের অভিযোগ, যখনই তারা ভ্যাকসিন নিতে আসেন, তখনই হাসপাতালের মূল ফটকে লেখা দেখেন ‘ভ্যাকসিন নেই’। ভ্যাকসিন সংকটে বিপাকে পড়েছেন নিবন্ধিত ও অনিবান্ধিত ১০ হাজারেরও বেশি খামারি।

যদিও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রয়োজনীয় চাহিদা অনুযায়ী তারা বরাদ্দ পাচ্ছেন না। বিশেষ করে কলেরা ভ্যাকসিন ও বিসিআরডিভির চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কিছুটা কম। সেপ্টেম্বরে বিসিআরডিভি ৫০ হাজার চাহিদার বিপরীতে ২৫ হাজার পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। মুরগির বাচ্চার টিকা আরডিভি ৫০ হাজার চেয়ে ৫০ হাজারই পাওয়া গেছে বলা হচ্ছে। ডাকপ্লেগ ভ্যাকসিন চাহিদার ৮০ শতাংশ পাওয়ার কথা বললেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। প্রকৃতপক্ষে এ হাসপাতালে হাঁস-মুরগিসহ সব ধরনের ভ্যাকসিন সংকট রয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার হাফিজুর রহমান বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় খামারিদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভ্যাকসিন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছি। এ সংকট দ্রুতই কেটে যাবে। তবে অন্যান্য রোগের ওষুধ ও টিকার সংকট নেই।’

প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত খামারির সংখ্যা ২৫২। সরকারি পরিসংখ্যানে মুরগি ৯ লাখ ৯০ হাজার ৪৯০টি, হাঁস ২ লাখ ৭ হাজার ৫০ ও কবুতর ৪৫ হাজার ৯৭০টি দেখানো হয়েছে। তবে সঠিক জরিপের তালিকা নেই প্রাণিসম্পদ দপ্তরে। সঠিক গণনায় এ সংখ্যা দ্বিগুণ হবে বলে দাবি খামারিদের।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভ্যাকসিন সংকটের বিষয় নিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। স্বল্প সময়ের মধ্যেই এ সংকট কেটে যাবে।’