পাবনার সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গি-আড়িয়া গোহালবাড়ী সড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার বেহাল অংশের জন্য সীমাহীন ভোগান্তিতে রয়েছে স্থানীয়রা। বেহাল এ সড়কের কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে আশপাশের পাঁচ-ছয়টি গ্রামের অন্তত ১০ হাজার বাসিন্দাকে।
সরেজমিন দেখা যায়, পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গি-আড়িয়া গোহালবাড়ীর প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ সড়ক ব্যবহার করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায় সড়কটি। আবার শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালির কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ সড়ক দিয়ে বালিয়াডাঙ্গি, আড়িয়া গোহালবাড়ী, জোতকাকুরিয়া, ভাদুরডাঙ্গা, দীঘিরপাড়াসহ পাঁচ-ছয়টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা ও জেলা সদরে যাতায়াত করে। জেলা ও উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি।
বালিয়াডাঙ্গি গ্রামের আশরাফুল জানান, বালিয়াডাঙ্গি-আড়িয়া গোহালবাড়ী সড়কটি হওয়ার পর প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় আগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অধিদপ্তর সংস্কারের জন্য টেন্ডার আহ্বান করে। ঠিকাদার এ সড়কে শুধু বালি আর খোয়া দিয়ে কোনোমতে লেপে দিয়ে চলে যায়। এরপর এ অবস্থায়ই পড়ে আছে সড়কটি।
চরতারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল হক টুটুল বেহাল সড়কটির বিষয় স্বীকার করে বলেন, পাবনা সদর উপজেলা স্থানীয় প্রকৌশলী অধিদপ্তর সার্ভে করেছে। আশা করছি, দ্রুতই একটি সমাধান হবে। তবে বৈশ্বিক করোনা মহামারীর কারণে নতুন প্রকল্প গ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় উন্নয়নকাজে ভাটা পড়েছে। এ কারণে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়নকাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।
পাবনা স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর বলেন, সড়কটিতে প্রায় ১৫ বছর আগে পিএনপি ইনফ্রা প্রকল্পের আওতায় বালি ও খোয়া দিয়ে কমপেকশন করা হয়েছিল। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ওই সড়কটির কোনো কাজ করা সম্ভব হয়নি। ভাঙাচুরা সড়ক দিয়ে যান চলাচল করায় অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে। এরই মধ্যে রাস্তাটি সার্ভে করে রাখা হয়েছে। পাবনায় নতুন কোনো প্রকল্প পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তাটি সংস্কারের ব্যবস্থা নেয়া হবে।










