পাবনার চাটমোহরে পাশাপাশি তিনটি বাড়িতে ৩০টিরও বেশি মৌচাক বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনা যেন কল্পনাকেও হার মানায়। এলাকাবাসীর কাছে বাড়ি তিনটি এখন রীতিমতো মৌবাড়ি!
উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামে অবস্থিত তিনটি বাড়ি। এসব বাড়ির ছাদের কার্নিশজুড়ে, দরজা-জানালার সঙ্গে, একটি বাড়ির চালের সঙ্গে, বাঁশের সঙ্গে আর অন্য একটি বাড়ির দরজা, জানালা আর আঙিনায়, ছোট আমগাছসহ বিভিন্ন গাছে ঝুলছে ৩০টির অধিক মৌচাক।
এর মধ্যে একটি ইন্তার আলীর পরিত্যক্ত পাকা বাড়ি। অন্য দুটি বাড়ির মালিক যথাক্রমে আ. মজিদ ও জাকির হোসেন। চাটমোহর উপজেলা সদর থেকে সাত-আট কিলোমিটার দূরে শাহপুর গ্রামের তিনটি বাড়িতে এখন শোভা পায় মনোলোভা দৃশ্য।
সরেজমিনে শাহপুর গ্রামে গিয়ে তিনটি বাড়ির চারদিক ঘুরে দেখা গেল কেবল মৌচাক আর মৌচাক। বাড়ির লোকজনের কোনো ক্ষতি করছে না তারা। যদিও একটু সতর্ক থাকতে হয় বলে বাড়ির লোকজন জানায়। বাড়ির মালিক জাকির হোসেন জানান, এর আগে বাড়িটিতে প্রতি বছর দু-একটা মৌচাক বসত। তবে এবার এত মৌচাক বসবে তা তিনি কল্পনাও করেননি।
আটঘরিয়ার আ. রশিদ জানান, এক বাড়িতে এতগুলো মৌচাকের খবর পেয়ে দেখতে এসেছেন। তিনি জানান, বাজারের মধু ভেজালে ভরা, তাই তিনি খাঁটি মধু সংগ্রহ করবেন এখান থেকে।
সেই ছোটবেলা থেকে মধু সংগ্রহ করা মৌয়াল আ. গণি বলেন, আগে বেশি ঝোপঝাড় থাকায় মৌচাক অনেক ছিল তাই মধুও বেশি পেতাম। আগে গ্রামে গ্রামে ঘুরে গৃহস্থের বাগান কিংবা বাড়ি থেকে মজুরি অথবা ভাগের বিনিময়ে যা মধু মিলত, তাতেই সাত-আট মাস সংসার চলে যেত। এখন সে চাক আর নেই।
এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ জানান, চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলে সরিষা মৌসুমে মৌচাষীরা ভিড় করেন। তারা ক্ষেতের পাশে মৌবাক্স স্থাপন করেন। এবারো প্রচুর মৌবাক্স স্থাপন করা হয়েছে। এ অঞ্চলে তিল, সরিষা, তিসি, কালোজিরার মতো মধুযুক্ত ফুলসমৃদ্ধ ফসল থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়। তবে মধুর সন্ধানে মৌমাছিরাও বনে গিয়ে মৌচাক তৈরি করছে। বাড়ি বা বাড়ির পাশের গাছে মৌচাক থাকে। কিন্তু যদি এত পরিমাণ মৌচাক একসঙ্গে থাকে, তাহলে সত্যিই বিস্ময়কর। এলাকাটা সরিষা চাষ প্রধান এলাকা হওয়ায় মৌমাছিরা এখানে ভিড় করেছে।










