আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে যতই ষড়যন্ত্র হোক, কারো কাছে মাথা নত না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় দেয়া ভাষণে গতকাল তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে অনেক ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত আছে। যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দেয়নি, পরাজিত শক্তি তাদের চক্রান্ত থেমে যায়নি। আর যেহেতু তারা জানে, কারো কাছে আমরা মাথা নত করি না, সেজন্য চক্রান্ত আরো বেশি। আমি জাতির পিতার কন্যা, কারো কাছে মাথা নত করি না, কারো কাছে মাথা নত করব না।’

আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার খণ্ডচিত্র তুলে ধরে নির্বাচনী প্রতীক নৌকায় ভোট দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি বলেন, ‘একমাত্র নৌকা ক্ষমতায় থাকলেই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় আর অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখলকারীরা দেশকে কিছুই দিতে পারেনি। এ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে স্বাধীনতা পেয়েছেন। এ নৌকা মার্কা ক্ষমতায় আসলেই দেশের মানুষের উন্নতি হয়। অস্ত্র হাতে অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখলকারীরা দেশের কোনো উন্নতি করে না। তাদের সময় দেশের কোনো উন্নতি হয় নাই, উন্নতি হয়েছে একমাত্র আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি হয়েছে। আমরা দারিদ্র্যের হার ৪১ ভাগ থেকে ১৮ দশমিক ৭ ভাগে নামিয়ে এনেছি। হতদরিদ্র যেখানে ২৫ ভাগ ছিল সেখানে আজকে হতদরিদ্রের হার মাত্র ৫ দশমিক ৬ ভাগ। ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের মাটিতে কেউ হতদরিদ্র থাকবে না। মানুষ খেয়ে-পরে সুখে-শান্তিতে বসবাস করবে, সে ব্যবস্থা আমরা করে দেব। একমাত্র নৌকা ক্ষমতায় থাকলে এটা সম্ভব।’

তারুণ্যের শক্তি বাংলাদেশের অগ্রগতি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তার প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য সমাবেশস্থলে আগতদের ওয়াদা চান। এ সময় উপস্থিত জনতা সমস্বরে তাকে সমর্থন জানায়। জনসভায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও মাগুরার নির্বাচনী আসনের প্রার্থীদের সঙ্গে জনগণকে পরিচয় করিয়ে দেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামী মনোনীত প্রার্থী আবদুর রহমান, মাগুরা-১ আসনে প্রার্থী ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান এবং ফরিদপুর-৩ আসনে দলীয় প্রার্থী শামীম হক সভায় বক্তব্য রাখেন। এর আগে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়েই ফরিদপুর পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।  

বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দুর্নীতি করতে আসেনি, নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে আসেনি, এসেছে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে। বিশ্বব্যাংক যখন পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ দিয়েছিল, তখন আমি চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারেনি। আমি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করব, করেছি। বাঙালি কারো কাছে মাথা নত করবে না।’

তিনি বলেন, ‘একমাত্র নৌকা মার্কায় ভোট দিলেই আমি ক্ষমতায় আসতে পারব, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারব। এ মাটি (ফরিদপুর) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাটি, এ মাটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি, নৌকার ঘাঁটি।’ 

সরকারপ্রধান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় কোনো মানুষ ক্ষুধার্ত থাকবে না। দারিদ্র্য থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না—সেই লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। প্রত্যেকটা মানুষের জীবন উন্নত করাই আমাদের লক্ষ্য। বয়স্কভাতা আওয়ামী লীগ প্রথম চালু করে। একুশ বছর পর সরকার গঠন করার পর, দেশের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে আওয়ামী লীগ। আর ২০০১ সালে খালেদা জিয়া বিদেশীদের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আসে। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসেই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি, মানুষ হত্যা, গুম ও খুনের রাজনীতি এবং আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে অত্যাচার-নির্যাতন গ্রেফতার করে জনজীবন বিপর্যস্ত করে তোলে। ফলে দেশে ইমার্জেন্সি আসে। ২০০৯ থেকে ২০২৩—এ ১৫ বছর টানা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই দেশটার উন্নয়ন হয়েছে।’ 

টাকা দিয়ে জনগণকে কেনা যায় না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের আরো কাজ বাকি, এখন উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। কে ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে? নৌকা মার্কা ভোট পেলেই আমি সরকারে আসতে পারব। আর উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়তে পারব। নৌকা মার্কাই দিতে পারবে এর সমাধান।’

গত ২০ ডিসেম্বর সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরানের (রহ.) মাজার জিয়ারত এবং এরপর সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী জনসভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন তিনি।