আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বুয়েটের ঘটনায় তদন্ত চলছে। আমরা খতিয়ে দেখছি। সেখানে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের নামে বুয়েটকে একটা অপরাজনীতি-জঙ্গিবাদের কারখানায় পরিণত করা হবে, এটা যাতে না হয় আমরা তদন্ত করে দেখছি। এ রকম কিছু পাওয়া গেলে সরকারকে অ্যাকশনে যেতে হবে।

গতকাল তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের দলীয় নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘‌বুয়েটে সেদিন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। আর আমি রাজনীতি করি বলে বুয়েটে যেতে পারব না, এটা কোন ধরনের আইন? কোন ধরনের নিয়ম?’

বাজারদর নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘‌কিছু পণ্যের দাম কমেছে। বাজার ওঠানামা করবেই। বিশ্বসংকট এর জন্য দায়ী, আর শাস্তি পাচ্ছি আমরা।’

রিজার্ভ নিয়ে বিএনপি মিথ্যাচার করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‌বিএনপি যখন ক্ষমতা ছেড়ে যায় তখন বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার। আর তারা এখন রিজার্ভ নিয়ে কটাক্ষ করে। যখন রিজার্ভ ২১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, ঈদ উপলক্ষে সে রিজার্ভ আরো বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। তারা না জেনে-শুনে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার করছে।’

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘‌নির্বাচনে প্রশাসন কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। আমরা এমপি-মন্ত্রী সাহেবরা যদি হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকি, তাহলে বিনা প্রতীকে নির্বাচন করার যে উদ্দেশ্য নেত্রী স্থির করেছেন, তা সার্থক হবে। কেউ ক্ষমতার দাপট ও ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না। যার নির্বাচন করার ইচ্ছা আছে, করবেন। সে স্বাধীনতা আছে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। জনগণ যাকে ইচ্ছা নির্বাচিত করবে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন, যদি কোনো অনিয়ম মনে করে তারা ব্যবস্থা নেবে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘‌চার ধাপে অনুষ্ঠিত হবে উপজেলা নির্বাচন। কাজেই আমাদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। ভালোভাবেই চলছে সবকিছু। এর মধ্যে দায়িত্বশীলদের এমন কিছু কথাবার্তা দলকে সংকটে ফেলে। ফ্রি স্টাইলে যা কিছু বলবেন—এটা তো আওয়ামী লীগ নয়। দলের গঠনতন্ত্র, নিয়ম-কানুন আছে। এগুলোর অ্যাকশন আমরা নেব। এরই মধ্যে কিছু অ্যাকশন নেয়াও হয়েছে।’

স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্ক চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‌ই বিতর্কের জবাবটা আমরা মোটাদাগে বলি, পাঠক কখনো ঘোষক হতে পারে না। তাহলে এমএ মান্নান, সন্দীপ এরাও তো স্বাধীনতার ঘোষক! তার পরও বড় কথা, এ ঘোষণার বৈধ অধিকার কার ছিল? বঙ্গবন্ধু ছাড়া আর কারো স্বাধীনতা ঘোষণার অধিকার ছিল না। সে ম্যান্ডেট ৭০-এর নির্বাচনে জনগণ তাকে দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতার লিগ্যাসি। বঙ্গবন্ধুর পর আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি সংগ্রামের লিগ্যাসি হিসেবে তার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছি। এ জনপদে সবার মৃত্যু হবে। নশ্বর পৃথিবীতে কিছুই অবিনশ্বর নয়। আজ বঙ্গবন্ধু নেই, শেখ হাসিনাও থাকবেন না। কিন্তু তাদের উত্তরাধিকারের কোনোদিনও মৃত্যু হবে না।’