তীব্র শীতে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবনযাত্রা অচল হয়ে উঠেছে। গতকালও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে এ জেলায়। সকাল ৯টায় তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল, যা চলতি মৌসুমেও দেশের সর্বনিম্ন।

চুয়াডাঙ্গায় কয়েকদিন বাদে সকাল থেকে সূর্যের দেখা মিললেও শৈত্যপ্রবাহের কারণে স্বাভাবিক কর্মজীবন হয়ে পড়েছে দুর্বিষহ। এবারের শীত মৌসুমে নিউমোনিয়ায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয়টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে প্রায় এক মাস ধরে চলা শৈত্যপ্রবাহে কর্মহীন মানুষের খাদ্যসহায়তা না দিয়ে চলছে এক ধরনের তামাশা। মাঝেমধ্যে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নিম্নমানের কম্বল বিতরণ ও ফটোসেশন করা হচ্ছে, যা ভুক্তভোগী শ্রমজীবীদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল হাসান জানান, এ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড থাকায় প্রচণ্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। গতকাল সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। এর আগে এ দিন  সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। ওই সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ। গত প্রায় এক মাস যাবত এ জেলায় ক্রমাগত তাপমাত্রা কমছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বেশির ভাগ দিনই কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া বিরাজ করছে। দিনে তাপমাত্রা কম বেশি হলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা কমে হাঁড় কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে। ফলে দুর্ভোগ বাড়ছে। এ আবহাওয়া আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সকাল থেকে যানবাহন চলাচল করলেও যাত্রীসংখ্যা কম। রাস্তাঘাটে, হাটেবাজারে জনসমাগম নেই বললেই চলে। তীব্র শীতে উপার্জন কমে যাওয়ায় হাটবাজারে কেনাকাটা করতে আসা মানুষের সংখ্যা যৎসামান্য।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান জানান, শীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ চলছে। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পত্র পাঠিয়ে তাদের শীতবস্ত্র বিতরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। শীতের কারণে খেটে খাওয়া কর্মহীন মানুষের খাদ্য সংকট দূর করার জন্য জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।