গাজীপুরের অনন্ত ক্যাজুয়াল অয়্যার লিমিটেড কারখানায় বেআইনিভাবে ছাঁটাই ও অতিরিক্ত কাজের চাপ বন্ধের দাবি নিয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে গেছেন শ্রমিকরা। গতকাল সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত টঙ্গীর আইআরআই রোডে দপ্তরটির নিচে তারা অবস্থান নেন। পরে কলকারখানা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি কারখানার মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলে শ্রমিকরা চলে যান। শ্রমিকরা জানান, মালিক পক্ষ কারখানা বন্ধ করে দেবে বলে তারা শুনেছেন। গত এক মাসে প্রায় ৮১৫ জন শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। শ্রমিক ছাঁটাই, অতিরিক্ত কাজের চাপ ও জোরপূর্বক চাকরি থেকে অব্যাহতি বন্ধ করার দাবিতে গতকাল তারা কাজ বন্ধ করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে অবস্থান নেন। অনেক শ্রমিককে হঠাৎ করে কারখানা থেকে বের করে দিয়েছে। সবাই চাকরি হারানোর ভয়ে রয়েছেন।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মোতালেব মিয়া বলেন, ‘শ্রমিকদের দাবি ছিল মালিক পক্ষ জোরপূর্বক ছাঁটাই করছে। কারখানায় অতিরিক্ত কাজের চাপের কথাও বলেছেন তারা। তাদের দাবি কিছুটা গুজব, কিছুটা সত্য। শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আমরা কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। শ্রমিকদের প্রতি কাজের চাপ যেন না থাকে, তাদের যতটুকু সক্ষমতা আছে সেভাবে যেন কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করার বিষয়ে মালিক পক্ষকে বলা হয়েছে।’
গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি জিয়াউল কবীর খোকন বলেন, অনন্ত ক্যাজুয়াল অয়্যার লিমিটেড কারখানা কর্তৃপক্ষ বিনা নোটিসে শ্রমিক ছাঁটাই করে। তবে শ্রম আইন অনুযায়ী ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করে দিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকরা ছাঁটাই চান না, চাকরি চান। গত এক মাসে ৮১৫ জন শ্রমিক ছাঁটাই করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। যাদের জোর করে ছাঁটাই করছে, তাদের সংসার চালানোর আর কোনো পথ রইল না।’










