যশোরে পাঁচটি নদীর ওপর নির্মাণাধীন আট সেতুর নির্মাণকাজ এক বছর ধরে বন্ধ। অভ্যন্তরীণ জলপথ ও তীরভূমিতে স্থাপনা নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুসারে যথাযথ উল্লম্ব-আনুভূমিক জায়গা না রাখার অভিযোগে হাইকোর্ট ২০২৪ সালের মে মাসে নির্মাণাধীন সেতুগুলোর কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। আটটি সেতু নির্মাণৎ কাজ বন্ধ থাকলেও তা থেকে শিক্ষা না নিয়ে হরিহর নদের ওপর আরো একটি অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণ করছে এলজিইডি।

জানা গেছে, ‘কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে হরিহর নদী পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। অথচ নীতিমালা অনুযায়ী যথাযথ উল্লম্ব-আনুভূমিক জায়গা না রেখে হরিহর নদের ওপর যশোর সদর উপজেলার গোয়ালদাহ বাজারে আরেকটি অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। নির্মাণাধীন এ সেতুও অত্যন্ত ঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। কারণ এখন নদীটির তলদেশ যে অবস্থায় রয়েছে সেখান থেকে আরো সাত-আট ফুট গভীর করে খনন করা হবে। সেক্ষেত্রে সেতুটি দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে কিনা তা নিয়ে ঝুঁকি রয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা মনে করেন।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সেনাবিহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে চারটি নদী খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে যশোর সদর উপজেলার সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত হরিহর নদও রয়েছে। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এলজিইডি এ নদের ওপর কম দীর্ঘ ও উচ্চতার একটি সেতু নির্মাণ করছে যশোরের পুলেরহাট-রাজগঞ্জ সড়কের গোয়ালদাহ বাজারে। যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও ক্ষোভ রয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি বলেন, ‘ভবদহের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ভবদহ বিলের সঙ্গে সম্পৃক্ত চারটি নদী খনন করা হবে। ওই প্রকল্পের আওতায় হরিহর নদও রয়েছে। খুব শিগগিরই খননকাজ বাস্তবায়ন হবে। এর মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এলজিইডি কম উচ্চতা ও দৈঘেÆর একটি সেতু নির্মাণ করছে। যথাযথ নীতিমালা মেনে সেতু নির্মাণ ও নদীবক্ষে ফেলা ইট-সিমেন্টের বর্জ্য অপসারণের জন্যে এনজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দেয়া হয়েছে।’

হরিহর নদে আরেক অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণে আপনারা একই পথে হাঁটলেন কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে এলজিইডি যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এটি ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প। এই প্রকল্পের মধ্যে একটি সেতু, ২২টি কালভার্ট, ৩৪ কিলোমিটার সড়ক, চারটি ক্রস ড্রেন ও একটি মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে। এই প্রকল্প এলজিইডি ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে নকশাসহ দেখভাল করছে।’