দীর্ঘ ৫৫ বছর বন্ধ থাকার পর গোপালগঞ্জে মধুমতী বিল রুট চ্যানেলের (কাটা মধুমতী নদী) সঙ্গে কংশুর খালের সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। পাকিস্তান আমলে মধুমতী বিল রুট চ্যানেলের ভাঙন দেখা দেয়ায় এ খালের মুখটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার করপাড়া, দুর্গাপুর, কাজুলিয়া ও কাঠি ইউনিয়নের অন্তত ৩৫টি গ্রামের হাজার হাজার কৃষক চাষাবাদে ক্ষতির সম্মুখীন হন। এসব গ্রামে কৃষিজমিতে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন খালটি মূল নদীর সঙ্গে সংযোগ দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে। সম্প্রতি গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ২০০ মিটার খালটি খনন করা হয়। শুক্রবার জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম উপস্থিত থেকে খালের সংযোগ উন্মুক্ত করেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোসা. নাজমুন্নাহার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়জুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহসিন উদ্দিন, সহকারী কমিশনার ভূমি মো. মামুন খানসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিল।
স্থানীয় করপাড়া ইউনিয়নের কৃষক বাবু মিয়া (৩২) বলেন, ‘পানির অভাবে আমাদের চাষাবাদ করতে কষ্ট হতো। অনেক জমি অনাবাদি থাকত। এখন নদীর সঙ্গে খালের সংযোগ হওয়ায় আমাদের সেচের পানির অভাব হবে না। একই এলাকার কৃষক পানজু মোল্যা বলেন, ‘পানি নামার ব্যবস্থা না থাকায় এই এলাকার কৃষিজমিতে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। খালটির সঙ্গে ১২টি শাখা খালের সংযোগ রয়েছে। মূল নদীর সঙ্গে খালটির পুনঃসংযোগ স্থাপন হওয়ায় এ অঞ্চলে বাড়বে কৃষি উৎপাদন। ফলে কৃষকদের আর ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করতে হবে না।’
করপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি নোয়াব আলী ফকির বলেন, ‘এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল খালটির বন্ধ মুখ খুলে দেয়া। দীর্ঘ বছর পর এলাকাবাসীর দাবি পূরণ হলো। সেচ পাম্প স্থাপনের জন্য এখন আর বিদ্যুৎ অফিসে ধরনা দিতে হবে না।’
জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম বলেন, ‘মধুমতী নদীর সঙ্গে খালটির পুনঃসংযোগ স্থাপন হওয়ায় এলাকায় কৃষি অর্থনীতির প্রসার ঘটবে। অনাবাদি জমিতে আবাদ হবে খাদ্যশস্য।










