অনিয়মের অভিযোগে ঝালকাঠির রাজাপুরে গালুয়া দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন দ্বিতল ভবনের কাজে বন্ধ করে দিয়েছে এলজিইডি।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে গত ২৯ জানুয়ারি দ্বিতল ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি নিলে স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ করে দেয়। এতে করে যথাসময়ে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গালুয়া দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহসিন খান ও ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি জাকির হোসেন অভিযোগ করে জানান, এলজিইডির অর্থায়নে ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ঝালকাঠির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ব্রাদার্স ২০২০ সালের মে মাসে ভবন নির্মাণকাজ শুরু করে। গত ২৯ জানুয়ারি দ্বিতল ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতিকালে কাজের মান নিয়ে সন্দেহ হলে তারা বিষয়টি বরিশাল এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাকারিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন এসে দেখেন নিম্নমানের বড় পাথর ও ২০ মিলি রডের পরিবর্তে ১৬ মিলি এবং ১২ মিলির পরিবর্তে ১০ মিলি দিয়ে ৬ ইঞ্চি ফাঁকা রাখার কথা থাকলেও সাড়ে ৮ ইঞ্চি দিয়ে ঢালাইয়ের প্রস্তুতি নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাই তিনি কাজ বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে ঠিকাদার শিমুল হোসেন জানান, নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে। পাথর, রড ও কাঠের কিছু সমস্যার বিষয়ের কর্তৃপক্ষ জানালে তা পরিবর্তন ও সব সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগত কারণে কিছুদিন কাজ বন্ধ রয়েছে। শিগগিরই যথাযথভাবে কাজ শুরু করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা জানান, বিদ্যালয় ভবন নির্মাণকাজে সামান্য কিছু ত্রুটি ধরা পড়ায় তা ঠিকাদার সমাধান করেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এখন তাদের অনুমতি পেলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হবে।
এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নুরুল হুদা জানান, মূলত ছাদ ঢালাইয়ের সময় কোনো প্রকৌশলীর উপস্থিত না থাকার বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানতে পেরে বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকারিয়া ওই স্কুলে যান এবং পাথর ও রডের কিছু অনিয়ম ধরা পড়ায় কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। যথাযথ নিয়মে ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।










