মিরসরাইয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা। গত ১৫ মাসে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮৭৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যুবরণ করেছে ছয়জন। পরীক্ষা করা হয়েছে ১১ হাজার ৬৬৭ জন রোগীকে।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যেক বছর ২৪ মার্চ আন্তর্জাতিক যক্ষ্মা দিবস হিসেবে পালিত হয়। চলতি বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ‘বিনিয়োগ করি যক্ষ্মা নির্মূলে, জীবন বাঁচাই সবাই মিলে’। মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০২১ সালে ৮ হাজার ৬৪১ জনের কফ পরীক্ষা করে ৭১৯ জন যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়। চলতি মার্চ পর্যন্ত ১২০০ জনের কফ পরীক্ষা করে পাওয়া যায় ১৬০ জন রোগী। ২০২১ সালে মৃত্যু হয় ছয়জন রোগীর। তবে ২০২২ সালে এখনো কারো মৃত্যু হয়নি। মূলত যক্ষ্মা ছাড়াও যারা অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত তারাই মৃত্যুবরণ করেছে বলে জানা গেছে। গত বছর প্রথম ধাপে (জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত) ৫৬৩ জন নারী ও ৬২৫ জন পুরুষের কফ পরীক্ষা করা হয়। এতে রোগী শনাক্ত হয় ১৪০ জন। দ্বিতীয় ধাপে (এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত) ৪৯৬ জন নারী ও ১০৬৬ জন পুরুষের কফ পরীক্ষা করা হলে শনাক্ত হয় ১৬৬ জন। তৃতীয় পেইজে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) ১৪১৯ জন মহিলা ও ১৪৯৫ জন পুরুষের কফ পরীক্ষা করে রোগী পাওয়া যায় ২০৮ জন। চতুর্থ ধাপে (অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত) ১৬৪২ জন পুরুষ ও ১৩৩৫ জন নারীর কফ পরীক্ষা করে ২০৫ জন রোগী শনাক্ত হয়। এছাড়া ১ হাজার ৮২৬টি জিন পরীক্ষা করা হয়েছে। সর্বমোট ১১ হাজার ৬৬৭ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে।

উপজেলা টিবি অ্যান্ড লেপ্রোসি কন্ট্রোল অ্যাসিস্ট্যান্ট (টিএলসিএ) হুমায়ুন কবির জানান, প্রত্যেক যক্ষ্মা রোগীকে দুই মাস, তিন মাস ও পাঁচ মাস পর পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা ও ওষুধের জন্য কোনো অর্থ নেয়া হয় না। বেশি জটিল রোগীদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা ফৌজদারহাট হাসপাতালে পাঠানো হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মিনহাজ উদ্দিন জানান, বিনামূল্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যক্ষ্মা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দেয়া হয়। এছাড়া সচেতনতা বৃদ্ধি করতে যক্ষ্মা দিবস উপলক্ষে আজ শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।