ভারত মহাসাগরে
সোমালিয়া জলদস্যুদের কবলে পড়া জাহাজ এমভি আবদুল্লাহসহ ২৩ নাবিক প্রায় দেড় মাস পর মুক্ত
হয়েছেন। শনিবার (১৩ এপ্রিল) মধ্যরাতের পর নাবিকরা মুক্তি পেয়ে জাহাজটি নিয়ে দুবাইয়ের
দিকে রওনা দিয়েছেন। সাতদিন পর দুবাই পৌঁছলে সব নাবিককে চট্টগ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে আসা
হবে। দস্যুদের কবল থেকে মুক্তির খবরে সব উৎকণ্ঠার অবসান হলো।
নাবিক সাব্বিরের
বাসায় ঈদের আনন্দ না থাকলেও তার মুক্তির খবর শুনে এখন পরিবারে বইছে খুশির বন্যা। আজ
রোববার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৭টায় টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গা
ধলাপাড়া গ্রামে টিভিতে এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের নাবিক সাব্বিরের মুক্তির খবর শুনে তার
বাবা, মা আবেগে আপ্লুত। পরিবারসহ গ্রামে বইছে আনন্দের জোয়ার। স্বস্তি ফিরেছে মাসহ স্বজনদের
মাঝে।
সাব্বিরের
মা সালেহা বেগম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সাব্বিবের সঙ্গে এখনো আমার কোনো কথা হয়নি। তবে
সাব্বিরের বাবা আর বোনের সঙ্গে আজ সকালে কথা হয়েছে। যতক্ষণ না পর্যন্ত আমার বুকের ধন
আমার বুকে না ফিরে আসবে সে পর্যন্ত আমার মনে কোনো শান্তি নাই। গত এক মাস কীভাবে কেটেছে
তা আমি বলে বোঝাতে পারব না। মার মন যে ছেলের জন্য কেমন করে শুধু মা-ই জানে, আমার মনে
কোনো শান্তি ছিল না। আমি সারা দিন নামাজ, রোজা, কোরআন শরিফ পড়ে দোয়া করতেছি যেন আল্লাহ
আমার বুকের মানিককে আমার বুকে ফিরিয়ে দেন। আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেছেন। শুনেছি সাব্বির
এখন দুবাই যাইতেছে।’
নাবিক সাব্বিরের
বাবা হারুন অর রশীদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আজ সকালে টিভিতে দেখতে পেলাম আমার ছেলেসহ
এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের সবাই মুক্তি পেয়েছে। এ কথাটা টিভিতে শোনার পর আজ মনে হচ্ছে
আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন। সকাল ৭টার সময় সাব্বিরের সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছে।
সাব্বির আমাকে বলেছে, বাবা আমি ভালো আছি, চিন্তা করো না। এখন তারা দুবাইয়ের দিকে যাচ্ছে।’
সাব্বিবের
বোন মিতু আক্তার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভাইয়ের জন্য দুশ্চিন্তায় এক মাস আমাদের বিষাদের
দিন কেটেছে। আজ সকালে আমার ভাইয়ের সঙ্গে আমার ও বাবার কথা হয়েছে। আমার ভাই বলেছে, আমরা
সবাই ভালো আছি, সুস্থ আছি। কবে দেশে আসবে তা এখনো বলতে পারছি না। আল্লাহর কাছে হাজার
শুকরিয়া, সুস্থভাবে মুক্তি পেয়েছে।’
পরিবার সূত্রে
জানা যায়, সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পাওয়া নাবিক সাব্বির হোসেনের বাড়ি
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ডাঙা ধলাপাড়া গ্রামে। তিনি নাগরপুরের
সহবতপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি পাস করেন। টাঙ্গাইল শহরের কাগমারী এমএম
আলী কলেজ থেকে ২০১৬ সালে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমিতে। সেখান
থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করেন। ২০২২ সালের জুনে এমভি আবদুল্লাহ নামক পণ্য বহনকারী
একটি জাহাজে মার্চেন্ট কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি নেন।
উল্লেখ্য,
১২ মার্চ বাংলাদেশ সময় দুপুরে ভারত মহাসাগরে জলদস্যুর কবলে পড়ে বাংলাদেশের পতাকাবাহী
জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। জাহাজটি কয়লা নিয়ে আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকের মাপুতো বন্দর থেকে
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হারামিয়া বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় শিল্প গ্রুপ কেএসআরএমের
মালিকানাধীন এসআর শিপিংয়ের জাহাজটি জিম্মি করে নেয় সোমালিয়ান দস্যুরা। ওইদিন বিকালে
জাহাজটি সোমালিয়ার দিকে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। জাহাজে টাঙ্গাইলের সাব্বিরসহ মোট
২৩ জন নাবিক রয়েছেন।










