যশোর-খুলনা মহাসড়কে পিছু ছাড়ছে না দুর্ভোগ। সড়ক উন্নয়নকাজে ধীরগতির কারণে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কাজে ধীরগতির কারণে এ মহাসড়কের যশোর অংশের চেঙ্গুটিয়া, ভাঙ্গাগেট থেকে নওয়াপাড়া বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটারে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এছাড়া যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পুলেরহাট ও লাউজানি এলাকায় চলছে সংস্কারকাজ। এ কারণে ওই সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থায় এবার ঈদযাত্রায় ভোগান্তি আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও পরিবহনচালকরা।
যাত্রীদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত সংস্কারের কারণে ১০ বছর ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। যানজটপ্রবণ হিসেবে যশোর-খুলনা মহাসড়ককে চিহ্নিত করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থাগুলো। অবশ্য সড়ক বিভাগ বলছে, চিহ্নিত স্থানগুলোতে যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সওজ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, যশোর-খুলনা মহাসড়কের ৩৮ কিলোমিটার সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের জন্য এক দশকে কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয় করেছে সরকার। ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আটটি দরপত্রের মাধ্যমে আট দফায় এ কাজ বাস্তবায়ন করেছে। মহাসড়কের পালবাড়ী থেকে নওয়াপাড়া পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে উঁচু-নিচু হয়ে গেছে। বসুন্দিয়া, প্রেমবাগ, টেঙ্গুটিয়া, ভাঙ্গাগেট, উড়োতলা মোড়, রূপদিয়া, মুড়লী, পদ্মবিলা ও অভয়নগরের নওয়াপাড়া শহর এলাকায় সড়কের বিটুমিন উঠে গেছে। পণ্যবাহী ট্রাক ও বাস চলছে হেলেদুলে। এক যানবাহন আরেক যানবাহনকে পাশ কাটাতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। বছরের পর বছর সড়ক সংস্কারের ফলে সদর উপজেলার বসুন্দিয়া, অভয়রের প্রেমবাগ, টেঙ্গুটিয়া, ভাঙ্গাগেট, নওয়াপাড়া শহরজুড়ে প্রায় তিন কিলোমিটারে যানজট লেগেই থাকে। বসুন্দিয়া থেকে নওয়াপাড়া শহরে পৌঁছাতে আধা ঘণ্টার সময় লাগলেও যানজটের কারণে তিন থেকে চার ঘণ্টা লাগছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে বসে থেকে বিরক্ত যাত্রীরাও।
যশোর বাস মালিক সমিতির সভাপতি বদরুজ্জামান বাবলু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এক দশক ধরে সড়কে কাজ চলছে। কাজই শেষ হয় না। যশোর-খুলনা মহাসড়কের প্রেমবাগ, টেঙ্গুটিয়া, ভাঙ্গাগেট, নওয়াপাড়া শহর এলাকায় এক লেনের ঢালাইয়ের কাজের কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। আধা ঘণ্টার রাস্তা অনেক সময় ৪-৫ ঘণ্টাও লেগে যায়। এতে যাত্রীরা একদিকে যেমন ভোগান্তিতে পড়েন, অন্যদিকে পরিবহন চালকরা বাড়তি ট্রিপ পরিচালনা করতে পারেন না। ঈদে ভোগান্তি আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
স্থানীয়রা বলছেন, বাগেরহাটের মোংলা বন্দর থেকে ছোট ছোট জাহাজে পণ্য নওয়াপাড়া বন্দরে আসার পর এ সড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। বাণিজ্যিকভাবে সড়কটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বরিশাল-খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের খুলনার সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান সড়ক এটি। তবে সড়কের কোথাও উঁচু-নিচু, কোথাও বিটুমিন উঠে গেছে, কোথাও তৈরি হয়েছে গর্ত। বিভিন্ন স্থানে নতুন করে কংক্রিটের ঢালাই দেয়ার কাজ চলছে। নওয়াপাড়া নদীবন্দরে প্রতিনিয়ত ট্রাকে পণ্য আনা-নেয়ার কারণে তিন কিলোমিটারের বেশি এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কে অব্যবস্থাপনার কারণে এবার ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে।
নওয়াপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী সুশান্ত সরকার বলেন, ‘ধীরগতির উন্নয়নকাজ, সিংহভাগ সড়ক দখল করে নির্মাণযজ্ঞ, সড়কের মধ্যেই নির্মাণসামগ্রী রাখা, কয়েক স্থানে এক লেনের সড়কে অধিক যানবাহনের চাপেও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। অসহনীয় যানজটে নওয়াপাড়ার বিভিন্ন শিল্প কারখানায় সময়মতো পণ্য পরিবহনেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীরাও সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন।’
এ বিষয়ে যশোর সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যশোর অঞ্চলে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি প্রতিরোধে সড়ক বিভাগ কাজ করছে। সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে যশোর-খুলনা মহাসড়কের তিন কিলোমিটারে সংস্কারকাজ করা হচ্ছে। অপরদিকে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে যশোর-বেনাপোল মাহসড়কের পুলেরহাট ও লাউজানি এলাকায় সাড়ে ৩০০ মিটার সংস্কারকাজ চলছে।’
তিনি বলেন, যশোর সড়ক বিভাগের অধীন সড়ক রয়েছে ৩৪০ কিলোমিটার। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক রয়েছে ১৬০ কিলোমিটার। যশোর-খুলনা মহাসড়কের ৩৮ কিলোমিটারের মধ্যে ১৫ কিলোমিটারের অবস্থা নাজুক। সড়কের কিছু অংশ রাটিং সৃষ্টি হওয়ায় সেগুলো সংস্কার করা হচ্ছে। ঈদের আগেই কাজ শেষ হবে। কিছু কাজ শেষ না করা গেলেও সংস্কার বন্ধ রাখা হবে। যাতে যাত্রীরা ভোগান্তিতে না পড়েন।’










