যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনায় দীর্ঘ ১৭ বছর আইনি লড়াই করে জয়ী হলেও যুক্তরাজ্যে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশী শেফ সাইফুল ইসলাম (৪৪)। সর্বশেষ ৮ অক্টোবর দেশটির কোর্ট রায় দেন সাইফুল ইসলাম যুক্তরাজ্য থাকতে পারবেন না। রায়ে বলা হয়, যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা না থাকলেও ব্রিটেনে থাকার মতো তার বৈধ কোনো কাগজপত্র (ওয়ার্ক পারমিট) নেই। স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে না গেলে যুক্তরাজ্য সরকার তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাইফুলের সঙ্গে কথা হলে তিনি বণিক বার্তাকে জানান, এ রায় তিনি মানেন না। এ রায় একজন অভিবাসীর সঙ্গে অমানবিক আচারণ। তার কথায়, ‘আইনি লড়াইয়ে আমি জয়ী হয়েছি, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করেছি। তার পরও আমি কেন ব্রিটেনে থাকতে পারব না? এ লড়াই চালাতে গিয়ে আমার জীবনের ১৭টি বছর আমি হারিয়েছি। বিয়ে, অর্থ, স্বাস্থ্য সবই শেষ করেছি। তবু কেন হোম অফিস আমার থাকার অধিকার দিচ্ছে না।’
ব্রিটেনে শেফ হিসেবে কর্মরত অবস্থায় ২০০৫ সালে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় সাইফুলের। মেয়াদ বাড়াতে সে সময় দেশটির হোম অফিসে কাগজপত্র জমা দেন। কিন্তু হোম অফিসের ভুলের কারণে তার কাগজপত্র অন্য কাগজপত্রের সঙ্গে মিশে যায়। এরপর হোম অফিস সাইফুলের বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ তোলে।
জানা গেছে, ২০০৩ সালে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় শেফ হিসেবে যুক্তরাজ্যে যান সাইফুল। সেখানে থাই রেস্তোরাঁয় দুই বছর কাজ করার পর ২০০৫ সালে মালিকপক্ষের সঙ্গে বেতন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। নিয়োগকর্তা তার বেতনের সিংহভাগ টাকা আটকে রেখে দৈনিক ১৮ ঘণ্টা কাজ করতে চাপ তৈরি করে। এমনকি তাকে মারধরও করে। এ ঘটনার পর তিনি রেস্তোরাঁর মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে হোম অফিস ও পুলিশ বিভাগে অভিযোগ করেন। পরে হোম অফিস ও পুলিশ বিভাগ সাইফুলকে অন্যত্র কাজ খুঁজে নেয়ার পরামর্শ দেয়। এমন পরিস্থিতিতে ওই বছরই সাইফুলের ভিসার মেয়াদ কমিয়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ তার।
যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগের বিরুদ্ধে দেশটির কোর্টে আপিল করেন তিনি। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর লড়াই করার পর আদালদের রায়ে সাইফুলের বিরুদ্ধে হোম অফিসের আনীত অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। চলতি বছর হোম অফিস এ ঘটনার জন্য সাইফুলের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে। কিন্তু তাকে দেশটিতে বৈধভাবে থাকার অনুমতি দেয়নি।
কাগজপত্র ও কোর্টের রায় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য সাইফুলের আবেদন প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে ভিত্তি ছিল ২০০৮ সালের একটি আবেদন। সে সময় তার কোনো ওয়ার্ক পারমিট ছিল না। সাইফুল বলছেন, ২০০৮ সালে তার কোনো ওয়ার্ক পারমিট না থাকার কয়েকটি কারণ ছিল। তাকে ভুলভাবে অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া তার ফাইলের কিছু অংশ নষ্ট করে ফেলা হয়েছিল। তিনি আইনগতভাবে ব্রিটেনে প্রবেশ করেছিলেন, তার প্রমাণ হিসেবে তার পাসপোর্টের প্রাসঙ্গিক পৃষ্ঠাগুলোও আদালতে দেয়া হয়নি।
৪৪ বছরের সাইফুল ইসলাম বর্তমানে ওয়েলসের কার্ডিফে বসবাস করছেন। নির্দোষ হয়েও যৌন অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করার ঘটনায় তার কাছে ক্ষমা চেয়ে ৫ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দিয়েছে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর।










