বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিক অধিকার রক্ষায় এখনো ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলাগুলোতে নিষ্পত্তির হার খুবই কম। শ্রমিকদের সুরক্ষা ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এটি বড় বাধা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) আয়োজিত সেমিনারে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের বরাত দিয়ে জানানো হয়, বাংলাদেশ শ্রম আইন লঙ্ঘনের তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের একটি। গত অর্থবছরে পোশাক খাতে শ্রম আইন লঙ্ঘনের ১৪৩টি মামলা দায়ের হলেও বিচার হয়েছে মাত্র ১৪টির। এছাড়াও ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার আবেদনগুলোর অনেকটাই প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) এবং নেদারল্যান্ডভিত্তিক সংগঠন মন্ডিয়াল এফএনভির সহযোগিতায় আয়োজিত এ গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, দেশের তৈরি পোশাক খাতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শ্রমিকের মানবাধিকার, জেন্ডার নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করতে হবে।
ব্র্যান্ডস এবং বায়ারদের সরবরাহ চেইনে শ্রমিক অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক নীতি অনুসরণে সক্রিয় ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তারা বলেন, এ ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়নের পক্ষ থেকে নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপনের ওপরও জোর দেওয়া উচিত। বিলসের বাস্তবায়নাধীন ‘তৈরি পোশাক খাতে শোভন কাজ নিশ্চিতকরণে সামাজিক সংলাপ’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত একটি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন ও ভবিষ্যত করণীয় নির্ধারণের জন্যই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, গবেষক এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, সরবরাহ চেইনে মানবাধিকার নিশ্চিত করা একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া। তাই এর প্রতিটি ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়নের সক্রিয় ভূমিকা থাকা জরুরি। এর পাশাপাশি কোড অব কন্ডাক্টগুলোকে সমন্বিত করে মানবাধিকার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াগুলো সহজীকরণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। শ্রম আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠকে আইএলওর কনভেনশনগুলো সঠিকভাবে অনুসরণের প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলা হয়, শ্রম অধিদপ্তর ও কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের সমন্বয়ে তৈরি পোশাক খাতের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে আইনগত বাধ্যবাধকতা মেনে চলা ও আন্তর্জাতিক সাম্প্রতিক নীতি অনুসরণ করা উচিত।
ব্র্যান্ডগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের পক্ষে যতগুলো কারখানা পরিদর্শন করা সম্ভব, বাংলাদেশে তার চেয়ে অনেক বেশি তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে। এ জন্য সব পক্ষকে নিয়ে একটি কার্যকরী নেটওয়ার্ক গঠন এবং কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করতে ম্যাপিং প্রয়োজন।
বিলস ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ও উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য বাদল খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হাজেরা খাতুন, শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন, কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের আইন কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম, ড্যানিশ দূতাবাসের সেক্টর কাউন্সিলর ওলে জাস্টিন, আইএলওর কান্ট্রি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ আনিস, বিলস নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ, প্রোগ্রাম ম্যানেজার প্রদীপ গ্যাব্রিয়েলসহ অন্যান্য বক্তারা।
গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আওরঙ্গজেব আকন্দ।










