জনবল সংকটে সাতক্ষীরা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কার্যক্রম চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। প্রথম শ্রেণীর এ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে নয়টি পদের মধ্যে চারটিই দীর্ঘদিন শূন্য। এতে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার আবহাওয়া তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনবল চেয়ে একাধিকবার
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের
কাছে চিঠি দেয়া হলেও আজ পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৮২ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাতক্ষীরা শহরের উত্তরকাটিয়া এলাকায় ছয় বিঘা জমির ওপর নির্মিত হয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারটি। এখান থেকে উপকূলীয় এলাকার আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তা ঢাকা আবহাওয়া অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে, কিন্তু চার বছর ধরে দুজন পর্যবেক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে এখানে। একই সঙ্গে অফিস সহায়ক ও নৈশপ্রহরীর পদও শূন্য। ফলে দাপ্তরিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নৈশপ্রহরী না থাকায় রাতে অরক্ষিত অবস্থায় থাকছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারটি।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জুলফিকার আলী জানান, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে সবসময় পর্যবেক্ষককে উপস্থিত থাকতে হয়, কিন্তু তিন-চার বছর ধরে পর্যবেক্ষকের দুটি পদই শূন্য। জনবল চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার লিখিতভাবে জানিয়েও কাজ হয়নি। তাছাড়া রাতের বেলা আরো সমস্যা হচ্ছে নৈশপ্রহরী না থাকায়। একজন অফিস সহায়কের পদও শূন্য রয়েছে। ফলে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, রাতের নিরাপত্তা ও দাপ্তরিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি দ্রুত জনবল নিয়োগের চেষ্টা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
সাতক্ষীরা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব আব্দুল বাছেদ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা। এখানে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করতে হয় সার্বক্ষণিক। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ দপ্তরে জনবল সংকট থাকাটা অবাঞ্ছনীয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত জনবল দেয়ার
চেষ্টা করব।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি জানান, উপকূলীয় জেলা হিসেবে সাতক্ষীরার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জেলার বাসিন্দাদের ১২ মাসই নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হয়, কিন্তু সরকারের এ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন জনবল সংকট আছে অথচ সংশ্লিষ্টরা এতদিন আমাকে জানাননি। তার পরও দ্রুত জনবল নিয়োগ দেয়ার জন্য চেষ্টা করা হবে।










