১৯৪২ সালের ১৬ অক্টোবর। তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার (বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ) মেদিনীপুরের ওপর দিয়ে বয়ে যায় এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়। একই সঙ্গে বন্যার কারণে গোটা বাংলার আমন মৌসুমের চাল উৎপাদন নিয়ে তৈরি হয় বড় ধরনের আশঙ্কা। বাংলা ও আশপাশের প্রদেশগুলোয় চালের দাম বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী বিহারের গভর্নর সেখান থেকে পারমিট ছাড়া অন্যান্য প্রদেশে চাল সরবরাহের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এর মধ্যেই চালের উৎপাদন নিয়ে বাংলার প্রাদেশিক সরকারের কৃষিমন্ত্রী ঢাকার নবাব খাজা হাবিবুল্লাহর এক বক্তব্য আবার অস্থিতিশীল করে তোলে চালের বাজারকে। মজুদ প্রবণতা বাড়তে থাকে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

স্টেটসম্যান পত্রিকায় সে সময় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪২ সালের জানুয়ারিতে বাংলায় প্রতি মণ চালের গড় দাম ছিল ৫ রুপি। ওই বছরের অক্টোবরের মধ্যে কলকাতার বাজারে চালের মণপ্রতি দাম ১০ রুপি ছাড়িয়ে যায়। মার্চের শেষদিকে এসে তা ২০ রুপি অতিক্রম করে। একই সঙ্গে রংপুরের বাজারে প্রতি মণ চালের মূল্য দাঁড়ায় ২৯ রুপিতে। কুমিল্লায় তা বিক্রি হচ্ছিল ২৩ রুপিতে। আর লালমনিরহাটের পাটগ্রাম বাজারে প্রতি মণ চালের দাম ৩০ রুপি ছাড়িয়ে যায়। গোটা বাংলায় দুর্ভিক্ষ তখন মাত্র জেঁকে বসছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় চাপে পড়ে যায় শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন সরকার। দ্রুত জনপ্রিয়তা কমতে থাকে তার। পরিস্থিতিকে আরো সঙ্গিন করে তোলে গভর্নরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলার বিরোধ। প্রাদেশিক অ্যাসেম্বলিতে তার বিরুদ্ধে তোলা হয় অনাস্থা প্রস্তাব। সে ফাড়া অল্পের জন্য কাটাতে সক্ষম হলেও গভর্নরের সঙ্গে বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৪৩ সালের ২৯ মার্চ পদত্যাগ করেন শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক। জনপ্রিয়তা দ্রুত কমতে থাকায় এ বিপত্তি রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হন তিনি। এক মাসের মাথায় নতুন সরকার গঠন করে খাজা নাজিমুদ্দিনের নেতৃত্বে মুসলিম লীগ। সে সময় তার উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে শেরেবাংলা বলেছিলেন, ‘যদি চালের দাম বাড়ার জন্য ফজলুল হক মন্ত্রিসভা দায়ী হয়, তাহলে পারলে খাজা নাজিমুদ্দিন তা কমিয়ে দেখাক।’

খাজা নাজিমুদ্দিন সরকারের বাজার ব্যবস্থাপনা গোটা বিষয়টিতে আরো বিপর্যয় ডেকে আনে। ওই সময় যুদ্ধের জন্য বাংলা থেকে বিপুল পরিমাণ চাল সরিয়ে নেয়ার কারণে বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা স্বীকার করতে চাইছিল না ব্রিটিশ সরকার। এজন্য প্রাদেশিক সরকারগুলোকে বিশেষ করে বাংলাকে বলা হয় সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও পর্যাপ্ত বলে প্রচার করতে। সে সময় বাংলা সরকারের সরবরাহমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। দিল্লি ও লন্ডনের মতো তিনিও শুরুতে বাংলায় চালের সরবরাহ পর্যাপ্ত বলে দাবি করেন।

তার শুরুর দিককার পদক্ষেপগুলোয়ও সে বিভ্রান্তির ছাপ ছিল স্পষ্ট। যতক্ষণে গোটা বিষয়টি বুঝতে পারেন, ততক্ষণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এমন এক পরিস্থিতিতে ১৯৪৩ সালের মে মাসে তিনি বক্রোক্তি করে বলেন, ‘পর্যাপ্ততা, পর্যাপ্ততা এবং পর্যাপ্ততার ধারণাটিকে এমনভাবে প্রচার করতে হবে, যাতে তা অসুস্থকর পরিস্থিতিতে চলে যায়।’ (দ্য ডকট্রিন অব সাফিশিয়েন্সি অ্যান্ড সাফিশিয়েন্সি অ্যান্ড সাফিশিয়েন্সি মাস্ট বি প্রিচড অ্যাড নসাম।)

ব্রিটিশশাসিত উপমহাদেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে বাংলায় চালের দামের ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছিল। কিন্তু তা দূর করার ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেননি সোহরাওয়ার্দী। ১৯৪৩ সালের জুনের শুরুর দিকে বাংলার চাঁদপুরে প্রতি মণ চালের মূল্য বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ রুপি ৮ আনায়। একই সময়ে বিহারের পূর্ণিয়ায় তা বিক্রি হয়েছে ১৮ রুপি ২ আনায়। উত্তরপ্রদেশের বেরিলিতে তখন চালের দাম প্রতি মণ ১২ রুপি ১০ আনা আর সিন্ধুর লারকানায় ৬ রুপি ৪ আনা। বিভিন্ন প্রদেশে চালের ভিন্ন দাম বাংলায় ব্যবসায়ীদের মজুদ প্রবণতাকে আরো বাড়িয়ে তোলে। আরো প্রকট হয়ে ওঠে সরবরাহ সংকট।

সে সময় বিভিন্ন সভা-সমিতিতে বাংলায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির ভয়াবহতা বৃদ্ধির পেছনে বড় ব্যবসায়ীদের চালের মজুদ প্রবণতাকে দায়ী করেছেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রণে তার নেয়া পদক্ষেপগুলো খুব একটা কাজ করছিল না। দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি মোকাবেলায় গৃহীত ‘ফেমিন কোড’ নীতিমালাও কার্যকর করতে পারেননি তিনি। এ অবস্থায় সবচেয়ে কম পরিমাণে চাল ব্যবহার করে পাতলা জাউজাতীয় খাবার চালু করা যায় কিনা, সেটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একজন বিশেষজ্ঞও নিয়োগ করেছিলেন তিনি। একই সঙ্গে দরিদ্রদের পরামর্শ দেন চালের বিকল্প খাবার গ্রহণের।

সোহরাওয়ার্দী দাবি করেন, ব্রিটিশশাসিত উপমহাদেশের অন্যান্য অংশ বাংলার বিপজ্জনক পরিস্থিতি অনুধাবন করতে পারছে। শিগগিরই সেখান থেকে সরবরাহ আসা শুরু হবে। বাজারে খাদ্যপণ্যের দামও কমে আসবে।

যদিও বাস্তব পরিস্থিতি ছিল পুরোপুরি ভিন্ন। সে সময় স্টেটসম্যান পত্রিকায় সোহরাওয়ার্দীর বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহসংক্রান্ত তার শুরুর দিককার বক্তব্যগুলোকে ‘অন্তঃসারশূন্য’ ও প্রচার-প্রচারণামূলক বলে উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমটি বলে, এ বক্তব্য শুনে পত্রিকাটিও বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিল।

সে সময় সরকারের অনেক পদক্ষেপে উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বাজারে। ১৯৪৩ সালের আগস্টে সরকারের পক্ষ থেকে চালের সর্বোচ্চ মূল্য বেঁধে দেয়া হয় প্রতি মণ ৩০ টাকা। আকস্মিক এ মূল্য নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা বাজারে খাদ্যাভাবকে আরো জোরালো করে তোলে। ডিলারদের পক্ষে এ মূল্যে চাল সংগ্রহ করা এক প্রকার অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক আড়ত বন্ধ হয়ে যায়। কালোবাজারে চালের মূল্য গিয়ে পৌঁছায় প্রতি মণ ৪০ রুপিতে।

১৯৪৩ সালের আমন মৌসুমে বাংলায় চালের উৎপাদন হয় প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। নভেম্বরের দিকে এ চাল বাজারে আসতে থাকলে দাম কিছুটা কমতে শুরু করে। কিন্তু দুর্ভিক্ষের প্রভাব বহাল থাকে ১৯৪৪ সালের শেষ পর্যন্ত। ততদিনে বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে শেরেবাংলা সরকারের মতো খাজা নাজিমুদ্দিন সরকারও ব্যাপক মাত্রায় জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। খোদ মুসলিম লীগেই তৈরি হয়েছে নানা দল-উপদল। ১৯৪৫ সালের মার্চে প্রাদেশিক অ্যাসেম্বলিতে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হয় খাজা নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রিসভা।

অর্থনীতি ও ইতিহাসবিদদের গবেষণায় উঠে এসেছে, ১৯৪৩-৪৪ সালের দুর্ভিক্ষকে আরো মারাত্মক আকার দিয়েছিল শেরেবাংলার সরকার এবং সোহরাওয়ার্দী তথা খাজা নাজিমুদ্দিন মন্ত্রিসভার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা। বিষয়টি সে সময়কার তুমুল জনপ্রিয় এ নেতাদের গ্রহণযোগ্যতাকে একপ্রকার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনে। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে।

দেশের শাসনক্ষমতায় থাকতে হলে বাজার ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারাটা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন রাজনীতিবিদরা। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যিনি দেশের প্রধান শাসক বা প্রধান দায়িত্বে থাকেন তাকে বাজার ব্যবস্থাপনা, বাজার নিয়ন্ত্রণের উপায় ইত্যাদি বিষয় বুঝতে হবে। না বুঝলে তিনি ব্যর্থ হবেন। দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার বাইরে গেলে মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যাবে। তখন মানুষ কথা বলবে। নেতারও বদনাম হয়। বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এর দায় সরকারের ওপরেও যায়, দায়িত্বশীল নীতিনির্ধারকদের ওপরেও বর্তায়।’

রাজনৈতিক অর্থনীতির পর্যবেক্ষকরাও বলছেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি মানুষের জীবনযাত্রা ও ভোগ প্রবণতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। এ অবস্থায় জনসাধারণের প্রত্যাশা থাকে সরকারের পক্ষ থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে। এতে সরকার ব্যর্থ হলে স্বাভাবিকভাবেই জনসাধারণও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

অর্থনীতিবিদ ড. এমএম আকাশ এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য প্রথমত জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলে। জিনিসের দাম বাড়লেও আয় বাড়ে না। ফলে ভোগ কমাতে হয়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পেছনে যদি কোনো সিন্ডিকেট থাকে, তাহলে তা দমন করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু সরকার তা না পারলে জনপ্রিয়তা হারাতে থাকে।’

স্বাধীন বাংলাদেশে তেতাল্লিশের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা যায় ১৯৭৪ সালে। তৎকালীন সংবাদমাধ্যম, প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন গবেষণায় উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, তেতাল্লিশের মন্বন্তরের মতো দুর্ভিক্ষের ক্ল্যাসিক লক্ষণগুলো ওই বছরও বেশ স্পষ্ট ছিল। বছরের শুরুতেই দুর্ভিক্ষের লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠতে থাকে। যদিও সেবার ফসলের উৎপাদন হয়েছিল আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশি। সে সময় খাদ্য সংকট শুরু ও পরে তা দুর্ভিক্ষে রূপ নেয়ার বড় কারণ হিসেবে দায়ী করা হয় সরকারের বাজার অব্যবস্থাপনা এবং ফড়িয়া ও চোরাকারবারিদের সীমাহীন অর্থলিপ্সাকে। দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণে বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার। ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় সরকারের চাল সংগ্রহ অভিযান। পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ রূপ দেয় বাজারে অনিয়ন্ত্রিত মুদ্রা সরবরাহ। নিত্যপণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকায় লাগামহীন হয়ে উঠেছিল মূল্যস্ফীতি। বাজারে পণ্য থাকলেও তা ছিল সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। ওই বছর শুধু জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যেই চালের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন গুণের কাছাকাছি।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের জুনে চালের মণপ্রতি দাম ছিল ৭১ টাকা। ১৯৭৫ সালের জানুয়ারির মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়ায় মণপ্রতি ৩৩০ টাকায়। একইভাবে ১২ টাকার সরিষার তেল দুই বছরের ব্যবধানে উঠে দাঁড়ায় প্রতি সের ৪১ টাকায়। চিনি, গুড়, লবণসহ সবকিছুরই দাম বেড়ে যায় কয়েক গুণ। সে সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষ থেকে এজন্য দায়ী করা হয় বন্যা ও বাইরে থেকে খাদ্য সহায়তা আসায় বিলম্বকে। যদিও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গবেষণায় বাজার অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করা হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের গবেষণায়ও বাংলাদেশে চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রশাসনিক ভুলনীতি ও বাজার অব্যবস্থাপনাকে। দুর্ভিক্ষ নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে তিনি তার গবেষণায় বলেন, ‘১৯৭১ থেকে ১৯৭৫-এর মধ্যে বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে ফসলের উৎপাদন হয় সবচেয়ে বেশি। ফলে দুর্ভিক্ষ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে ঘটেনি। ফসলের জোগান সংকটও এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে কম। বরং দুর্ভিক্ষ ঘটেছে বাজার অধিকারের অসম ক্ষমতা থেকে সৃষ্ট সংকটের কারণে। সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি ও ভঙ্গুর মুদ্রাব্যবস্থা পণ্যের উচ্চ দাম সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। ফলে অধিকাংশ গরিব মানুষই বাজার থেকে পণ্য কেনার ক্রয়ক্ষমতা হারায়।’

বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ও দুর্ভিক্ষ বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষকে আস্থাহীন করে তুলেছিল। তার মৃত্যুর পর এ আস্থাহীনতার প্রভাব বহন করতে হয়েছে আওয়ামী লীগকেও।

অর্থনীতির দুর্বিপাক ও তা মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপগুলো সব সময়ই রাজনীতিতে বড় ধরনের নির্ধারণী ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ইতিহাস থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা আমাদের বলছে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও সেখান থেকে সৃষ্ট সংকট জনসাধারণকে ব্যাপক মাত্রায় বিক্ষুব্ধ করে তোলে। এতে ক্ষমতাসীনদের প্রতি মানুষের সমর্থনও কমতে থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয়ও আমরা দেখতে পাচ্ছি, শ্রীলংকায় বাজার অব্যবস্থাপনা ও খাদ্য সংকটের কারণেই রাজাপাকসে সরকারের পতন ঘটেছিল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারও জনপ্রিয়তা হারিয়েছিল খাদ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায়। বর্তমানেও বাজার অব্যবস্থাপনায় মানুষের কষ্ট বাড়ছে। সংকট মোকাবেলায় খাদ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। উৎপাদন বাড়াতে কৃষককে প্রণোদনা দেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আমদানি চালু রাখতে হবে।’