গবেষণা, উদ্ভাবন, জ্ঞানসৃষ্টি, মানসম্মত প্রকাশনা ও একাডেমিক উৎকর্ষে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ছয় শিক্ষক-গবেষককে ‘ইউএপি রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ দিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ, ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআরআইডি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর গ্রিন রোডে ইউএপির স্থায়ী ক্যাম্পাসের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছয় শিক্ষক-গবেষককে তাদের গবেষণা ও প্রকাশনার জন্য পুরস্কৃত করা হয়।

ইউএপির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. তানভীর ফেরদৌস সাঈদ প্রথম স্থান অর্জন করে স্বর্ণপদক, ক্রেস্ট ও সনদ পেয়েছেন। ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহরিয়ার যথাক্রমে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক, ক্রেস্ট ও সনদ পান। গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য আরো তিন শিক্ষক-গবেষককে ক্রেস্ট ও সনদ দিয়ে সম্মাননা দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএপির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কে. এম. মোজিবুল হক। সভাপতিত্ব করেন ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া।

কে. এম. মোজিবুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষের অন্যতম প্রধান ভিত্তি গবেষণা। গবেষণা ও উদ্ভাবনের স্বীকৃতি ইউএপিতে গবেষণাবান্ধব পরিবেশ আরো শক্তিশালী করবে। দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধানে কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী গবেষণায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আরো সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, টেকসই অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ অর্জনে গবেষণার বিকল্প নেই। শিক্ষক-গবেষকদের স্বীকৃতি তাদের উচ্চমানের গবেষণায় উৎসাহিত করবে এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সম্পৃক্ত হতে অনুপ্রাণিত করবে। আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনার পাশাপাশি জনকল্যাণে ব্যবহারযোগ্য গবেষণাকে ইউএপি গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও দেশের উন্নয়নে গবেষণা ও উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ। দেশে শক্তিশালী গবেষণা পরিবেশ গড়ে তুলতে ইউজিসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চলতি বছর করের বোঝা ৫ শতাংশ কমানো হয়েছে এবং আগামী বছর আরো ৫ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই গবেষণা অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। গবেষকদের ওপর বিনিয়োগ দেশের ভবিষ্যতের ওপর বিনিয়োগ বলেও মন্তব্য করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান।

ইউএপির কয়েকজন শিক্ষক-গবেষক বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন। কিউ১ ও কিউ২ জার্নালে প্রকাশনা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

অনুষ্ঠানে ইউএপি রিসার্চ পলিসি বুকলেট উন্মোচন করা হয়। বিভিন্ন বিভাগের গবেষণা কার্যক্রম প্রদর্শনের পাশাপাশি ইউএপির গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম এবং আইআরআইডি নিয়ে নির্মিত প্রমোশনাল ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে ইউএপির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।