ময়মনসিংহ নগরীতে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে। দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে মশার উপদ্রব। বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ১১৫ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৮৫, নারী ২৪ ও ছয়টি শিশু রয়েছে। গতকাল হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ১১ মাসে ১৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ২৪টি শয্যা রয়েছে। আগস্টে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫০ জন, সেপ্টেম্বরে ৩৭৩, অক্টোবরে ৭৭৯ এবং ২ নভেম্বর পর্যন্ত ৮২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. জাকিউল ইসলাম জানান, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। চিকিৎসক ও নার্সরা আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।

নগরীর বাসিন্দারা বলছেন, সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। নিয়মিত ফগার মেশিন চালানো বা লার্ভা ধ্বংসে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত ঘরে থাকা মুশকিল হয়ে পড়েছে। বাসা-বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত সব জায়গাতেই মশার উৎপাত বেড়েই চলেছে।

নগরীর ভাটিকাশর এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যার পর ঘরে বসে থাকা দায়। কয়েল, স্প্রে, ব্যাট কিছুতেই কাজ হয় না। শিশুরা ঘুমাতে পারে না, সকালে স্কুলে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

বড়বাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাই বলেন, ‘ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্ক পেয়ে বসেছে। শুধু হাসপাতাল নয়, বাসা বাড়িতেও আক্রান্ত অনেক রোগী রয়েছে। নগরীর ড্রেন, খাল ও আবর্জনার স্তূপ মশার প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে। সিটি করপোরেশনের ফগার মেশিনের ধোঁয়াও তেমন কাজে আসছে না; বরং মশা এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।’

কাচিঝুলি এলাকার বাসিন্দা সরুজ আলী বলেন, ‘সন্ধ্যার পর মশার উৎপাত অসহনীয় হয়ে পড়ে। ডেঙ্গুর ভয় আমাদের দিন-রাতের শান্তি কেড়ে নিয়েছে। এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দরকার।’

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মশক নিধনে দেড় কোটি টাকা বাজেট ধরা হয়েছে। যার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা এরই মধ্যে ব্যয় করা হয়েছে। ২০ অক্টোবর থেকে মশা নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। মাইকিং, লিফলেট বিতরণসহ জনসচেতনতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ড্রেন পরিষ্কার, কাদা-ময়লা অপসারণ এবং ঝোপঝাড় পরিষ্কারের কাজও চলমান।

এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এইচ কে দেবনাথ বলেন, ‘বাড়ির ছাদে বা টবে পানি জমে থাকলে তা পরিষ্কার করতে হবে। মশার প্রজনন বন্ধে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কার্যক্রম নিয়মিত চলছে।’

সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মোখতার আহমেদ জানান, সিটি করপোরেশন মশা নিধনে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। তবে জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।