সাভারের আশুলিয়ায় পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের একটি নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনের ছাদ ধসে অন্তত ১৫ শ্রমিক আহত হয়েছেন। গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আশুলিয়ার গণকবাড়ী এলাকায় পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নির্মাণাধীন ক্যান্সার হাসপাতালের ১০ তলা এ ভবনের ছাদ ধসে পড়ে। আহতদের উদ্ধার করে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, সাইক্লোর্টন স্থাপনা প্রকল্পের আওতায় ১০ তলা ভবনের গতকাল সর্বশেষ তলায় ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। এ সময় ওই তলার অডিটোরিয়ামের অংশটি একটু উঁচু করায় সেই স্থান ধসে পড়ে। সাভারের ঢাকা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ডিইপিজেড) ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানান, ভবনটি তাদের ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের খুব কাছেই। ঘটনার পর পরই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। গিয়ে দেখেন, ভবনের ১০ তলার ছাদের অধিকাংশ ভেঙে পড়েছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। প্রাথমিকভাবে তারা সবাই নির্মাণ শ্রমিক বলে জানা যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একটি বিদেশী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনের নির্মাণকাজ করছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেন্টারিংয়ে কোনো সমস্যা ছিল। সে কারণে এ ধস হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্তসাপেক্ষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। সেখানকার ফোরম্যান ও ইঞ্জিনিয়ারের কাছ থেকে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে কেউ নিখোঁজ নেই। সবাইকে তারা খুঁজে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি ইনচার্জ শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘আহতদের প্রথমে উদ্ধার করে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেয়া হয়। ভবনটির কাজ বন্ধ রেখে আনসার দিয়ে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে।’

এ কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘ভবনটি হাসপাতালের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছিল। ২০১৬ সালে এ ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্টার লাইট কাজটি করছে।’

আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানান আশুলিয়া থানার এসআই সাদরুজ জামান। তিনি বলেন, ‘নির্মাণাধীন ওই ভবনের ছাদ ধসে অন্তত ১৫ শ্রমিক আহত হন। এর মধ্যে রাশেদুল নামে এক নির্মাণ শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। বাকিদের পরিচয় জানা যায়নি।’

গণপূর্ত সাভার কার্যালয়ের উপপ্রকৌশলী মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভবনটি আমরা বা গণপূর্ত বিভাগ নির্মাণ করছে না। ভবনটি পরমাণু শক্তির নিজস্ব প্রকৌশলী ও কনসালট্যান্টরা নির্মাণ করছেন। ফলে এটির নির্মাণজনিত ত্রুটি বা ভবন ধসের কারণ তারা ভালো বলতে পারবেন।’

এদিকে ছাদ ধসে ১৫ শ্রমিক আহত হওয়ার ঘটনাটি তদন্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক দেবাশীষ পাল। তিনি বলেন, ‘মেডিকেল ইনস্টিটিউটের একটি প্রকল্পের আওতায় ভবনটি নির্মাণ হচ্ছে। ছাদ ধসের বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’