দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে বাগেরহাট শহরের প্রধান সড়কসহ পৌর শহরের নিচু এলাকা। জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শহরবাসী। পৌরবাসী দ্রুতই জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার (৩১ জুলাই) রাত থেকে লাগাতার বৃষ্টিপাতে শহরের শালতলা, পিটিআই মোড়, খারদার স্কুল রোড, হাসপাতাল মোড়সহ শহরের আশপাশের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে ঘরের সামনে হাঁটু পানি জমে থাকায় উৎকণ্ঠায় পড়েছেন শহরবাসী। বৃষ্টিপাতে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্মআয়ের মানুষ।

ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিক না থাকার কারণে এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

শুক্রবার (২ আগস্ট) দুপুরে বাগেরহাট শহর ঘুরে দেখা গেছে, খোদ পৌসভার কার‌্যালয়ের সামনের সড়ক, শহরের খানজাহান আলী রোড, রেল রোড, সাধনার মোড়, শালতলা, খারদার, মিঠাপুর পাড়, মেইন রোডের পুরাতন বাজার মোড়, পোস্ট অফিসের সামনে, পুরাতন কোর্টসহ অধিকাংশ সড়ক হাঁটু সমান পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ শহরের প্রধান কাঁচা বাজার, মাছ বাজারও প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে ভাঙা রাস্তায় পানি জমার কারণে আরো বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মানুষকে। রিকশাচালক হারুন বলেন, শহরের রাস্তাগুলো ভাঙাচোড়া, এর মধ্যে আবার লাগাতার বৃষ্টি । বৃষ্টি হলেই শহরের অধিকাংশ রাস্তায় জমে থাকে হাঁটু পানি। যাত্রী পাওয়া যায় না।  ইনকাম  করতে কষ্ট  হয়। বৃষ্টিতে মোটর নষ্ট হয়ে যায়। বৃষ্টির পানির সঙ্গে ড্রেনের নোংরা পানি মিশে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। এতে আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।

এলাকার শিশু হাসপাতালের পেছনে বসাবসকারী সঞ্চিতা নামের এক নারী বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের মেঝেতে পানি উঠে যায়। দুদিন ধরে রান্নাবান্না বন্ধ, শুকনা খাবার খাচ্ছি। আমাদের এখানকার ৬টি পরিবাবের একই অবস্থা। পানি নিষ্কাশন না হওয়া পযন্ত আমরা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাব না।

পথচারি জুলফিকার  আলী বলেন,ড্রেনের মুখগুলো দিয়ে পানি সরে না। দীর্ঘদিন ধরে  ড্রেন পরিস্কার না করায় বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি  হয়েছে। হাঁটুসমান ময়লা পানির মধ্যেই চলাচল করতে হচ্ছে। আমরা দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান চাই।