সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নে কয়েকশ বিঘা জমি ১০০ বছর ধরে অনাবাদি পড়ে রয়েছে। সময়মতো সেচের ব্যবস্থা না থাকা ও বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ভয়ে কৃষকরা এসব জমিতে ফসল ফলানো থেকে বিরত থাকতেন। তবে ওই ইউনিয়নের কৃষক মিজানুর রহমানের চিন্তা ছিল ভিন্ন। তিনি অনাবাদি এসব জমিকে আবাদে ফেরাতে নিয়েছিলেন কঠিন সিদ্ধান্ত। সফলও হয়েছেন, এরই মধ্যে প্রায় ৭০ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ ও মাছ আহরণ শুরু করেছেন তিনি। তার এ সফলতা দেখে ইউনিয়নের অনেক কৃষকই এখন অনাবাদি জমিতে আবাদের পরিকল্পনা করছেন।
জানা গেছে, মিজানুর রহমান এ বছর প্রায় ৭০ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছেন। একই সঙ্গে মৎস্য প্রকল্পও হাতে নিয়েছেন।
মিজানুর রহমান জানান, এ জমিগুলো বছরের প্রায় অর্ধেকটা সময় পানির নিচে থাকে। পানি নেমে যাওয়ার পর অপেক্ষাকৃত নিচু জমিগুলোয় আগে কিছু দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। পানি নামলেও এখানে কোনো চাষাবাদ কেউ করতে পারত না। জমিগুলোয় পলি পড়ে এমন উচ্চতা হয়েছে যে আমন কিংবা বোরো কোনো ধানই চাষ সম্ভব নয়।
তিনি জানান, ৫০ বিঘা জমিতে এ বছর প্রায় ১০ লাখ টাকার দেশীয় মাছ আহরণ করেছেন। দেশীয় মাছ আহরণের লক্ষ্যে এ জমি থেকে মাটি কেটে উঁচু করে জমির চারপাশে পাড় নির্মাণ করেছেন। একপাশের সঙ্গে প্রাকৃতিক খালের সংযোগ স্থাপন করেছেন। মাছ আহরণ শেষেই ৩০ বিঘায় লাগিয়েছেন বোরো। বোরো কাটার পরই আবার পানি আসবে, সেই সঙ্গে আসবে দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ। এভাবে সারা বছরই তিনি আয় করতে পারবেন।
জমিগুলোকে চাষাবাদি জমিতে রূপান্তরিত করার এ পথ মোটেই সহজ ছিল না। জমির মাটি কাটার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। যদিও মিজানুর রহমানের সে খরচ লাগেনি। সিমেন্ট কোম্পানি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ নিজেদের প্রয়োজনে ঠিকাদারদের মাধ্যমে মাটি কেনে। তাই তিনি নিজেই উদ্যোগী হয়ে কোম্পানিকে বিষয়টি জানান। কোম্পানিও তার পরিকল্পনায় সন্তুষ্ট হয়ে জমি থেকে মাটি সংগ্রহ করে। এ থেকে মিজানুর রহমান নগদ কিছু অর্থও পান, যা তিনি তার পরিকল্পনাগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় করেছেন।
লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের সুরমা প্লান্ট ম্যানেজার হারপাল সিং জানান, দেশের একমাত্র স্বয়ংসম্পূর্ণ সিমেন্ট প্লান্টে ক্লিংকার উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল হিসেবে মাটি ব্যবহার করা হয়। স্থানীয় ঠিকাদারদের মাধ্যমে এবং স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এ মাটি সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। মাটি সংগ্রহের পর জমির মালিকরা অনাবাদি জমিগুলোতে বোরো চাষ করতে পারেন, অনেকে আবার মাছ চাষও করেন। কোম্পানির পক্ষ থেকে জমিগুলো থেকে যাতে তারা আয় করতে পারেন, সেজন্য তাদের পাশে দাঁড়ায় কোম্পানি।










