ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আহত অনেকেই এখন ভর্তি রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল)। পূর্ণাঙ্গ ও উন্নত চিকিৎসাসহ অনুদানের আশ্বাস দেয়া হলেও আহতদের অভিযোগ, এসবের কিছুই তারা পাননি। উল্টো, চিকিৎসায় অবহেলা এবং ভুল অস্ত্রোপচারের বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে আহতদের।

চিকিৎসা সেবা, প্রতিশ্রুত অর্থ না পাওয়া এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে গতকাল বুধবার (১৩ নভেম্বর) দিন থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ করেছেন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আহতরা। রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) সামনের সড়কে অবস্থান নেন তারা। বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আল্টিমেটামের মুখে সেখানে হাজির হন চার উপদেষ্টা এবং প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার একজন সহকারী। নিজেদের ভুলত্রুটি স্বীকার করে আহতদের আশ্বাস দিয়ে শান্ত করে তারা হাসপাতালে পাঠান।

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে উঠে আসে পঙ্গু হাসপাতালে সুচিকিৎসার অভাবের কথা। গণঅভ্যুত্থানে আহত তরুণ মো. নাদিম জানান, তার পায়ে শটগানের গুলি লেগেছিল। পঙ্গু হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করান তিনি। রক্ত ঝরতে থাকার পরও তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু তার পায়ের অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় আবার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি। চারবার অস্ত্রোপচার হয়েছে এ দফা। তবে এবারও তার পায়ের অবস্থার উন্নতি হয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রথম দিকে তারা সেবাযত্ন পেতেন। অনেকেই তাদের দেখতে আসতেন। এরপর আর কেউ তাদের খোঁজ নেয়নি। চিকিৎসার মানও ভালো থাকেনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। উল্টো, বিদেশী চিকিৎসা সরঞ্জামাদি আনার ব্যাপারে আহতদের ব্যবহার করতে চাইছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

নাদিমের আরো অভিযোগ, সব রোগীকে একই ওষুধ দেয়া হচ্ছে। পড়ে গিয়ে কারো পা ভেঙে গেছে, আবার কারো গায়ে গুলি লেগেছে। সবাইকে একই ওষুধ দেয়া হচ্ছে। একজনের চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাকে দেয়া হচ্ছে সরকারি ড্রপ। নাদিম প্রশ্ন তোলেন, এই ওষুধ খেয়ে তারা কীভাবে সেরে উঠবেন।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গাজীপুর চৌরাস্তায় দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হন একজন গার্মেন্টস কর্মী। আহত এই রোগীও পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি। তিনি অভিযোগ করেন, তার পায়ে দশবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি অস্ত্রপচারই ছিল ভুল। এখনো তার পায়ের ক্ষতস্থান থেকে রক্ত ঝরছে।

একই ওষুধ দেয়ার কথা বলেছেন এই রোগীও। তিনি বলেন, রোগীর যে অবস্থাই হোক না কেন, সবার জন্যই দেয়া হচ্ছে কেবল ব্যথানাশক নাপা ট্যাবলেট। হাড় গুড়ো হয়ে যাওয়া, কোপ খাওয়া সবার জন্যই এই নাপা ট্যাবলেট বরাদ্দ। আশ্বাস পেলেও তাদের কপালে জোটেনি ভালো ওষুধ এবং ভালো চিকিৎসা।

আজ সচিবালয়ে আহতদের সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে উপদেষ্টাদের। এই রোগীরা জানান, তারা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সেখানে গিয়ে সুচিকিৎসার অভাবের কথা তুলে ধরবেন।