উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনামলের শেষ দিকে ঐতিহাসিক টংক আন্দোলন ও হাজং বিদ্রোহের অকুতোভয় সৈনিক কুমুদিনী হাজং শনিবার দুপুরে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। গতকাল নেত্রকোনার দুর্গাপুরে কুল্লাগড়া ইউনিয়নের বহেরাতলী গ্রামের বাড়িতে তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় সর্বস্তরের মানুষ। 

এর আগে বহেরাতলী গ্রামের বাড়িতে কুমুদিনী হাজংয়ের মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুল হাসান, কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড মণি সিংহের ছেলে দিবালোক সিংহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয় হাজং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পল্টন হাজংসহ শত শত মানুষ।

শ্রদ্ধা জানানো শেষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য কুমুদিনী হাজংয়ের মরদেহ বাড়ি থেকে সোমেশ্বরী নদীপাড়ে গ্রামের শ্মশানঘাটে নেয়া হয়।

কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দিবালোক সিংহ বলেন, ‘কুমুদিনী হাজং এই দেশের কৃষক, মেহনতি মানুষ, জনতার স্বার্থের একটি সাম্যের সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখেছেন। সে লড়াই, সংগ্রাম, আন্দোলনের কর্মী ছিলেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন। আদিবাসীদের অধিকার রক্ষার আন্দোলনের তিনি যে সংগ্রাম করেছেন সেই সংগ্রামের মৃত্যু নেই, মুক্ত মানুষের মুক্ত সমাজ একদিন প্রতিষ্ঠা হবেই।’ কুমুদিনী হাজংয়ের ছেলে অর্জুন হাজং বলেন, ‘মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তার আত্মার শান্তির জন্য আপনারা সবাই প্রার্থনা করবেন।’