দেশের বিভিন্ন জেলায় ১০-১২টি জাতের লিচু পাওয়া যায়। কিন্তু স্বাদে, গন্ধে, রসে ও মিষ্টতায় দিনাজপুর সদর উপজেলার ‘বেদানা লিচু’
অতুলনীয়। দিনাজপুর হর্টিকালচার সেন্টারের তথ্য মতে, দিনাজপুর ছাড়াও রাজশাহী, ঈশ্বরদী, পাবনা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, রংপুর, কিশোরগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দারবানসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কম-বেশি লিচু চাষ হয়। দেশে বোম্বাই, মাদ্রাজি, বেদানা, মোজাফ্ফরপুরী, চায়না-থ্রি, চায়না-টু, কাঁঠালি, হাড়িয়া—এ আট জাতের লিচু হয়।
দেশে সবচেয়ে বেশি লিচু চাষ হয় বোম্বাই জাতের। প্রায় সব জেলায় মাদ্রাজি ও মোজাফ্ফরপুরী জাতের লিচু পাওয়া যায়। চায়না-থ্রি ও চায়না-টু জাতের লিচুও বিভিন্ন জেলায় চাষ হয়। সবচেয়ে বেশি লিচু চাষ হয় দিনাজপুর জেলায়। এরপর পাবনার ঈশ্বরদী উপজলায়।
দিনাজপুর হর্টিকালচার সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে ৪ হাজার ৫০০টি লিচু বাগান আছে। এর মধ্যে দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লিচু বাগান আছে। এরপর সদর ও খানসামা উপজেলায়। এছাড়া কাহারোল, বীরগঞ্জ, বোচাগঞ্জ, চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী ও নবাবগঞ্জ উপজেলায়ও লিচু চাষ হয়। এর মধ্যে ৩৯ শতাংশই বোম্বাই জাতের বাগান।
দিনাজপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক এজামুল হক জানান, দেশে চাষ হওয়া লিচুর সব জাতের মধ্যে দিনাজপুরের বেদানা জাতের লিচু গুণে, মানে ও বৈশিষ্ট্যে সেরা। দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলায় কমবেশি এ লিচুর চাষ হলেও দিনাজপুর সদর উপজেলার মাশিমপুর, শিকদারগঞ্জ, মহব্বতপুর, উলিপুর গ্রামে উত্কৃষ্ট মানের বেদানা লিচু পাওয়া যায়।
যেকোনো লিচুর চেয়ে বেদানা লিচুর মিষ্টতা ও শাঁসের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। অন্যান্য জাতের লিচুর শাঁসের পরিমাণ যেখানে ১৯ শতাংশ, সেখানে বেদানা জাতের লিচুর শাঁসের পরিমাণ সর্বচ্চো ২৮ শতাংশ। আকারে গোলাকার, এ লিচুর রঙ গোলাপি, এর বীজ ছোট, রসাল। খোসা পাতলা। অন্য জাতের লিচুর খোসা খুললে লিচুর রস মাটিতে বা শরীরে গড়িয়ে পড়ে কিন্তু বেদানা লিচুর খোসা ছাড়ানোর পর রস মাটিতে বা শরীরে পড়ে না। অনন্য এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে বেদানা লিচুর জনপ্রিয়তা ও চাহিদা দেশের সর্বত্র।
সম্প্রতি দিনাজপুর শহরের গোর-এ শহীদ বড় ময়দানের পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, লিচুর পাইকারি বাজার। এ বাজারে নানা জাত, আকার ও রঙের লিচুর বেচাকেনা চলছে।
আজমত আলী নামে এক আড়তদার বণিক বার্তাকে বলেন, ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা গাছ থেকে লিচু পেড়ে আড়তদারের কাছে বিক্রি করেন। এরপর আড়তদাররা সারা দিন পাইকারি ও খুচরা ক্রেতাদের কাছে সে লিচু বিক্রি করেন।
লিচু ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদ বলেন, দিনাজপুরের মাশিমপুর, শিকদার, মহব্বতপুর ও উলিপুর গ্রামের বেদানা লিচু এ পাইকারি বাজার বা শহরের কোনো বাজারে বিক্রি হয় না। শহরের বাজারে যে বেদানা লিচু পাওয়া যায়, তা বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা। কিন্তু আসল বেদানা লিচু কিনতে ক্রেতারা ছোটেন মাশিমপুর, শিকদার ও উলিপুর গ্রামে।
দিনাজপুর সদরের বেদানা লিচুখ্যাত মাশিমপুর গ্রামের লিচু বাগান মালিক রওশন আলী বণিক বার্তাকে বলেন, এ বছর বেদানা লিচুর দাম অনেক বেশি। মৌসুমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রতি ১০০টি বেদানা লিচু গাছ তলাতেই ৭০০-১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।










