প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা ‘এক্সপ্রেসওয়ে’। গত মার্চে এক্সপ্রেসওয়েটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যদিও ফুটওভারব্রিজসহ আনুষঙ্গিক আরো কিছু অবকাঠামোর কাজ বাকি রয়ে গেছে। অসমাপ্ত এসব কাজ শেষ করতে আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। এতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১১১ কোটি টাকা। তবে এ বরাদ্দ যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন প্রকল্প কর্মকর্তারা। এজন্য নির্মাণব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রকল্পটির স্টিয়ারিং কমিটির সভায় ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে একমত পোষণও করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের (এন-৮) যাত্রাবাড়ী-মাওয়া-ভাঙ্গা অংশে নির্মিত ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়েটি উদ্বোধনের পর যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। এক্সপ্রেসওয়েটি ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে সোজা গিয়ে মিশেছে মাওয়ায়, পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়কে। পদ্মা সেতু পার হয়ে এটি চলে গেছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত। চার লেনের এক্সপ্রেসওয়ের পাশাপাশি ধীরগতির গাড়ি চলার জন্য দুই পাশে রাখা হয়েছে দুটি করে আরো চারটি লেন। কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণব্যয়ের হিসাবে এটি এরই মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সড়ক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

এক্সপ্রেসওয়েটির অসমাপ্ত কিছু কাজ বাস্তবায়নে ৪ হাজার ১১১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ‘ঢাকা-খুলনা (এন-৮) মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী ইন্টার সেকশন থেকে (ইকুরিয়া-বাবুবাজার লিংক সড়কসহ) মাওয়া পর্যন্ত এবং পাঁচ্চর-ভাঙ্গা অংশ ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেনসহ চার লেনে উন্নয়ন প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরণ’ শিরোনামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত। এরই মধ্যে প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা খরচও হয়েছে। যদিও মাওয়া ও পাঁচ্চর এলাকায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ গোলচত্বরের নির্মাণকাজ এখনো বাকি। গত জুনে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত গোলচত্বরগুলোর নকশার কাজই শেষ করতে পারেননি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। নকশা প্রণয়ন করতে গিয়ে এরই মধ্যে যোগ হয়েছে কাজের নতুন অঙ্গ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের মাওয়া গোলচত্বরের (সার্ভিস লেনসহ) জন্য সমন্বিত নকশা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এজন্য আগে প্রাক্কলিত প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিমাণ জমি দরকার হবে। একই অবস্থায় রয়েছে পাঁচ্চর গোলচত্বরও। এ দুই গোলচত্বরের পাশাপাশি প্রকল্পের আওতাধীন শুভাঢ্যা ব্রিজের ডিজাইনের অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। মহাসড়কটির গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণেরও প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। প্রকৌশলীরা স্টিলের কাঠামোর ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি এ প্রকল্পের অধীনে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয় নির্মাণেরও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। মহাসড়কটিতে থাকা পুরনো ধলেশ্বরী ব্রিজ-১, ধলেশ্বরী ব্রিজ-২, আড়িয়াল খাঁ ব্রিজসহ আরো কয়েকটি সেতুর সংযোগ সড়ক, এক্সপানশন জয়েন্ট, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিয়ারিংও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এসব কারণে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার প্রকল্পটির ব্যয় বাড়তে পারে।

প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির সভায় ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা সম্পর্কে প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (আরডিপিপি) কাজের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে। তারা বলেছেন, মাওয়া গোলচত্বরটি নতুনভাবে ডিজাইন প্রণয়ন ও নির্মাণ করা প্রয়োজন। পাঁচ্চর গোলচত্বরটিও একই অবস্থায় রয়েছে। নতুন নকশায় নতুন করে আরো জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে। মূলত এজন্যই ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন তারা। প্রকল্প কর্মকর্তাদের এ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের প্রাক্কলন প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছে প্রকল্পটির স্টিয়ারিং কমিটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক এবং সওজ অধিদপ্তরের ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান বণিক বার্তাকে বলেন, গোলচত্বরগুলোর নকশা তৈরির কাজ চলছে। শিগগিরই নির্মাণকাজ শুরু হবে। তবে ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।