চলমান সংস্কারগুলো নানাবিধ কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু সংস্কার ব্যতীত নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বাস্তবায়ন হবে না বলে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকস (দায়রা)-এর সংলাপে বক্তারা তুলে ধরেন। তারা বলেন, সকল নতুন শক্তিকে সংগঠিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

গতকাল ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকস (দায়রা) কর্তৃক ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের যাত্রা ও প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়: ভবিষ্যৎ কোন দিকে?’ - শীর্ষক প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)- এর সভাকক্ষে আয়োজিত এক অংশীজন সংলাপে এসব কথা বলেন তারা। সে সময় ধারণাপত্র পাঠ করেন লন্ডনের এসওএএস ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক ড. মুশতাক এইচ. খান।

সে সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন এর অধ্যাপক ড. আসিফ মোহাম্মদ শাহান, মানবাধিকার কর্মী ও নারী সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরিন পারভীন হক, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)- এর সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) -এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিনসহ অন্যান্য।

অধ্যাপক ড. মুশতাক এইচ. খান বলেন, বাংলাদেশে স্বৈরাচার, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও প্রতিষ্ঠানসমূহ ভেঙে পড়েছে। কেবল আইন বা সংবিধান পরিবর্তন করেই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, এর জন্য দরকার ক্ষমতার সুষম বণ্টন। ছাত্র আন্দোলন, তরুণ উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও নাগরিক সমাজের মতো নতুন শক্তিকে সংগঠিত করে এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যারা নিজেদের স্বার্থে নীতিগত পরিবর্তনের দাবি জানাবে এবং তা বাস্তবায়নেও ভূমিকা রাখবে।

অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে নারী ও তৃণমূল মানুষের অধিকারের ওপর জোর দেয়ার কথা উল্লেখ করে শিরিন পারভীন হক বলেন, ‘আমরা মানবিক রাষ্ট্র চাই। যেই রাষ্ট্র সবার কথা ভাববে।’

ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘আমাদের সংস্কারের উদ্যোগগুলো সব জায়গা থেকে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে, যা প্রচণ্ড হতাশার।’