চট্টগ্রাম বিশ্বেবিদ্যালয়ের (চবি) রেজিস্ট্রার, প্রক্টর ও নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান- এ তিন পদে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দায়িত্বে থাকা সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসানকে দুই বছরের জন্য রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে এবং প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রবিউল হাসান ভূইয়াকে এক বছরের জন্য প্রক্টর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা প্রধান নিয়োগ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কেএম নুর আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এসব নিয়োগ দেয়া হয়। এরপরই নিয়োগপ্রাপ্তরা স্ব স্ব পদে যোগদান করেছেন। 

২০১৮ সালের ২ এপ্রিল থেকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করছিলেন একই অফিসের পর্ষদ শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার কেএম নুর আহমদ। মঙ্গলবার তিনি অবসরে যাচ্ছেন বলে এ পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পাওয়া অধ্যাপক মনিরুল গত বছরের ১২ নভেম্বর থেকে প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এএফ রহমান হলের প্রভোস্ট ও আলাওল হলের আবাসিক শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে, প্রক্টরের দায়িত্ব পাওয়া ড. রবিউল গত ২৩ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবদুর রব হলের প্রভোস্টের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান বজল হক অবসরে যাচ্ছেন মঙ্গলবার। ডেপুটি রেজিস্ট্রার সম-মর্যাদার এ পদটিকে নীতিমালা লঙ্ঘন করে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে- এমন খবরে দুদিন চাউর ছিল বিশ্ববিদ্যালয়। সোমবার সকালে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাককে নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান পদটি ডেপুটি রেজিস্ট্রার মর্যাদার প্রশাসক পদ। কর্তৃপক্ষ চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক বা কর্মকর্তাকে এ পদে নিয়োগ দিতে পারে। বাইরে থেকে নিয়োগ দিতে চাইলে নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত পূরণ ও সামরিক বাহিনীর কমিশন পদ মর্যাদার কাউকে নিয়োগ দিতে হবে। যাকে নতুন নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তিনি এ দুটির কোন শর্তই পূরণ করেননি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নব-নিযুক্ত রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান পদের বিপরীতে সেকশন অফিসার হিসেবে সেনা বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তাকে ছয় মাসের জন্য চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ওই কর্মকর্তা সর্বশেষ সেনা বাহিনীর সুবেদার মেজর ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় এ নিয়ে সোমবার বিকাল পর্যন্ত সভা করা হয়েছে। পরে সকল নিয়মকানুন ও শর্ত যাচাই করে তাকে সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এমন প্রার্থীর যোগ্যতা শিথিলযোগ্য।’ তাহলে নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধানের দায়িত্ব কে পালন করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নিয়ানুযায়ী দপ্তর প্রধান না থাকলে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। সেই হিসেবে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সেকশন অফিসার দপ্তর প্রধানের দায়িত্বপালন করবেন।’