রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামান ও তার স্ত্রী নিশাত তামান্নাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় গতকাল সকালে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন রাজশাহী মহানগর দায়রা ও সিনিয়র স্পেশাল জজ।

এর আগে জামিন চেয়ে আদালতে হাজির হন শেখ কামরুজ্জামান ও তার স্ত্রী নিশাত তামান্না। শুনানি শেষে তাদের আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারক মো. আশিকুজ্জামান। একই সঙ্গে এ দম্পতিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুপুরে তাদের রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। আদালতের বিশেষ প্রসিকিউটর শহিদুল হক খোকন আসামিদের জামিন বাতিল করে জেলহাজতে পাঠানোর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ৩০ আগস্ট দুদকের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন কামরুজ্জামান ও তার স্ত্রী নিশাত তামান্নার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের পৃথক দুই মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চলতি বছরের ১ জুন কামরুজ্জামান ও ২ জুন তার স্ত্রী নিশাত তামান্নার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক। পরে ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর আদালতে হাজির হয়ে তারা জামিন নেন।

২০১৭ সালে অভিযোগ পেয়ে দুদক শেখ কামরুজ্জামানের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে। ২০২২ সালের ১ জুন প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ৭৬ লাখ ৫০ হাজার ৬৮৬ টাকার সমপরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়। গত ৩০ আগস্ট দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা আমির হোসাইন ১ কোটি ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯১১ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে চার্জশিট দেন।

অন্যদিকে শেখ কামরুজ্জামানের স্ত্রী নিশাত তামান্নার (৩৯) বিরুদ্ধেও একই দিনে চার্জশিট  দেয়া হয়েছে আদালতে। অভিযোগপত্রে নিশাত তামান্নার বিরুদ্ধে ৬৮ লাখ ৪৯ হাজার ৭৮৪ টাকা অবৈধভাবে অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিশাত তামান্নাও ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর থেকে এ মামলায় জামিনে ছিলেন। গতকাল স্বামী কামরুজ্জামানের সঙ্গে একই আদালতে জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলেন। শেখ কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতিসংক্রান্ত আরেকটি মামলা রাজশাহী বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে চলমান।