মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। তার জায়গায় এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে দায়িত্ব দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বর্তমানে তিনি প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব পদে রয়েছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে শেখ আব্দুর রশীদের নিয়োগ বাতিলের তথ্য জানানো হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মামুন শিবলীর সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর যে প্রজ্ঞাপনে শেখ আব্দুর রশীদকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে চুক্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, তার নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ এখন বাতিল করা হলো।
অন্যদিকে ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক আরেক প্রজ্ঞাপনে এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। তিনি প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবের পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এটি পালন করবেন। জনস্বার্থে জারীকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার ছয়দিনের মাথায় বিসিএস-৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা শেখ আব্দুর রশীদকে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কর্মজীবন শেষ করা এ কর্মকর্তাকে তার চারদিনের মাথায় সচিব পদমর্যাদায় ফিরিয়ে এনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব করা হয়।
২০২৪ সালের অক্টোবরে দুই বছরের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে চুক্তিতে নিয়োগ পান শেখ আব্দুর রশীদ, যিনি ত্রয়োদশ সংসদের এমপি-মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা সাধারণত মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছ থেকেই শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে থাকেন।
এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর সিরাজ উদ্দিন মিয়া ১৯৮২ বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। ২০০৯ সালে যুগ্ম সচিব অবস্থায় ওএসডি হন। পরে ২০১৬ সালে তিনি অবসরে যান। পরিচিত মহলে সিরাজ উদ্দিন সাথী নামে পরিচিত এ কর্মকর্তা আমলাতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধ, সমাজ বিবর্তন, ধর্ম চিন্তা, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ৩২টি বই লিখেছেন।









