সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) কার্যালয় অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৬০-৭০ জন শিক্ষার্থী গতকাল বেসিস কার্যালয় অবরোধ করেন। এ সময় তারা বেসিসের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির পদত্যাগ ও জবাবদিহিতার দাবি তোলেন। তবে নির্বাহী কমিটি পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানায়। 

শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল বেলা ৩টায় পাঁচ শিক্ষার্থীর একটি দল বেসিস কার্যালয়ে এসে বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদের সঙ্গে দেখা করতে চান। ১ ঘণ্টার বেশি সময় তাদের বসিয়ে রাখেন বেসিসের কর্মকর্তারা। পরে অসহযোগিতার অভিযোগ এনে আরো ৫০-৬০ শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে যোগ দেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘যার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে সে কীভাবে বেসিস নেতৃত্বে থাকে’ বলে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। 

বেসিস কর্মকর্তারা জানান, এত শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কার্যালয়ে এলে একটি ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখানকার কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তারা জানান, বেলা সাড়ে ৩টায় যখন বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা বেসিস কার্যালয়ে প্রবেশ করেন তখন অ্যাকসেস টু ফাইন্যান্স কমিটির সভা চলছিল। সেখানে কয়েকজন বেসিস সদস্য ও তিনজন ইসি সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন জাইকার দুই প্রতিনিধি। দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। আকস্মিক ঘটনায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েন তারা। 

এ সময় বেসিসের সিনিয়র সহসভাপতি এম রাশিদুল হাসান ও সহসভাপতি (প্রশাসন) সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বেরিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে নারী কর্মীদের নিরাপদ প্রস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা বেসিস সভাপতির সঙ্গে দেখা করার দাবি জানান। তবে এ সময় তিনি কার্যালয়ে ছিলেন না। পরে রাত ৯টায় শিক্ষার্থী ও বেসিস নেতারা সংবাদ সম্মেলন করেন।  

বেসিসের সহসভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, ‘তারা বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদ সম্পর্কে কিছু অভিযোগ এনেছেন। আমরা এর যৌক্তিক প্রমাণ না থাকায় জানিয়েছি, অভিযোগ এলেই কেউ অপরাধী প্রমাণিত হয় না। শিক্ষার্থীরা তদন্ত করতে বলেছেন। আমরা বলেছি, বেসিস এ ধরনের কিছু করার কর্তৃত্ব রাখে না। শিক্ষার্থীরা আমাদের জানিয়েছেন তারা দেশের আইসিটি খাতে অবদান রাখতে চান। আমরা তাদের ওয়েলকাম করেছি। তাদের কী আইডিয়া আছে, কীভাবে কী করতে চান, সে বিষয়ে তাদের ধারণাগুলো আমাদের দিক। আমরা সেগুলো বিবেচনা করব। বেসিসের স্টুডেন্টস ফোরাম আছে, তারা চাইলে সেখানে কাজ করতে পারবেন।’

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাশরাফি সরকার বলেন, ‘যেহেতু রাসেল টি আহমেদের ব্যাপারে বেশকিছু অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে হবে। এজন্য একটি তদন্ত কমিটি করতে হবে। তদন্তে তিনি যদি অপরাধী প্রমাণিত হন তাহলে অবশ্যই তাকে পদত্যাগ করতে হবে। আর যদি কিছু পাওয়া না যায় তাহলে তিনি যথাবস্থায় থাকবেন।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘বেসিসের একটি স্টুডেন্টস ফোরাম রয়েছে। এ ফোরামের আওতায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এতদিন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত না করে একটি নির্দিষ্ট দলের কর্মীদের ও কিছু বিশেষ প্রতিষ্ঠানের মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে শিক্ষার্থীদের এ টিমের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’ 

শাহরিয়ার হাসনাত তপু বলেন, ‘আমরা বেসিসকে তদন্ত কমিটি করতে বলেছিলাম। তারা অপারগতা জানিয়ে বলেছে বেসিস এ ধরনের কোনো সংগঠন নয়, সংগঠনটি এ ধরনের কাজ করেও না। তারা আমাদের করতে বলেছেন। শিক্ষার্থীরা তদন্ত করার এখতিয়ার রাখে না। সরকারসংশ্লিষ্ট সংস্থা ও গণমাধ্যমকে আমরা আহ্বান জানাব এ বিষয়ে কাজ করতে। আমরা এ ব্যাপারে খোঁজখবর রাখব।’