১ হাজার ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প। উদ্দেশ্য মেঘনা নদীর ভাঙন ঠেকানো। নদীর এক পাশে জিও ব্যাগ ও সিসি ব্লক ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো); অন্য পাশে চলছে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন। সম্প্রতি ভোলার মনপুরায় গিয়ে এ দৃশ্য দেখেছেন প্রতিবেদক। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, অবৈধভাব বালি উত্তোলনের কারণে নদী ভাঙনের পাশাপাশি বাঁধে ধস থামছে না।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, মনপুরায় মেঘনা নদীতে ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ, সিসি ব্লকসহ একটি প্যাকজে পাউবো-২ প্রকল্পের কাজ চলমান। এজন্য বরাদ্দ প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

সম্প্রতি একাধিক দিনে সরজমিনে দেখা যায়, মনপুর উপজেলার উত্তর পাশে রামনেওয়াজ এলাকায় মেঘনাপাড়ে জিও ব্যাগ ফেলছে পাউবো-২। ঠিক তার অন্য প্রান্তে দক্ষিণে সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার পাশের নদী থেকে অবৈধভাবে বড় বড় ড্রেজার দিয়ে উত্তোলন করা হচ্ছে বালি। পাশের বনের ভেতর দিয়ে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত পাইপ টেনে বিভিন্ন জলাশয়, পুকুর ও কৃষিজমি ভরাট করা হচ্ছে।

ওই ড্রেজারের মিস্ত্রি ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. হিরন মিয়া ও ড্রেজারের কর্মী মো. রুবেল জানান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের অনুসারী মো. মোসলেহ উদ্দিনের নির্দেশে তারা নদী থেকে বালি উত্তোলন করছেন। বাল্কহেডের মাধ্যমে বালি এনে পাইপ দিয়ে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে নেয়া হচ্ছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তারা এ বালি উত্তোলনের কাজ করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাকুচিয়া ইউপি চেয়ারম্যন মো. জাকির হোসেন প্রভাব খাটিয়ে এসব মানুষ বালি উত্তোলন করছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. জাকির হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ‘‌মাটি দিয়ে ব্যক্তিগত দুটি পুকুর ভরাট করতে বলেছি। বালি উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই।’

যদিও বালি উত্তোলনের সঙ্গে শাহজাহান মেম্বর ও ইয়াসিন সর্দার জড়িত বলে জানিয়েছেন বাল্কহেডের এক কর্মী। তবে তাদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় এক প্রবীণ জানান, ভাঙন প্রতিরোধে পাউবো কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের ফলে ভাঙন প্রতিরোধের সব চেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ ধরনের বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয় না। এ কারণে বন্ধ হচ্ছে না ভাঙন। থামছে না অবৈধভাবে বালি উত্তোলন।

নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলনের কারণে বিভিন্ন স্থানে নির্মিত বেড়িবাঁধসহ সিসি ব্লক ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাউবো-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘‌নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলন বরাবরই একটি এলাকার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এসব বালি উত্তোলনকারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’

এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘‌কোথাও থেকে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে কি না সেটা জানা নেই। তবে অবৈধ উপায়ে কেউ যদি বালি উত্তোলন করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’