মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে ডুবে যাওয়ার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি রো রো ফেরি আমানত শাহ। ফেরিটি ওঠাতে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় আসার কথা থাকলেও পদ্মার তীব্র স্রোত বাধা হয়ে দাঁড়ায় অত্যাধুনিক এ উদ্ধারকারী জাহাজের। অবশেষে কম ক্ষমতাসম্পন্ন হামজা ও রুস্তম দিয়ে ফেরিটি ওঠানোর ঘোষণা দিয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

দেশের নৌযান উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য বিআইডব্লিউটিএর জাহাজের সংখ্যা মোট চারটি—হামজা, রুস্তম, প্রত্যয় ও নির্ভীক। এর মধ্যে হামজা ও রুস্তম দুটোরই মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে অন্তত ১০ বছর আগে। ১৯৬৪ সালে হামজা ও ১৯৮২ সালে রুস্তম নির্মাণ করা হয়। শুরুতে জাহাজ দুটোর সক্ষমতা ছিল ৬০ টন করে। তবে এগুলোর সক্ষমতা এখন ৪০ টনে এসে ঠেকেছে বলে জানিয়েছেন হামজার কমান্ডার এসএম আনোয়ার হোসেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন আইন ১৯৭৬ মতে, কোনো জাহাজ ৩০ বছর পর্যন্ত চলাচলের জন্য উপযোগী থাকে। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সংস্কার সাপেক্ষে দুই মেয়াদে পাঁচ বছর করে অতিরিক্ত আরো ১০ বছর জাহাজের রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ বাড়ানো যাবে। তবে বর্ধিত এ মেয়াদের পর জাহাজটি কোনোভাবেই চালানো যাবে না। মেয়াদোত্তীর্ণ নৌযান চালানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কোনো অভ্যন্তরীণ নৌযানের কমান্ডার মেয়াদোত্তীর্ণ জাহাজ চালালে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা অথবা দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

তবে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক বলেন, উদ্ধারকারী জাহাজ দুটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও তা উদ্ধারকাজে সক্ষম হওয়ায় আমরা ব্যবহার করছি। আমাদের প্রকৌশলীরা জাহাজ দুটি ব্যবহারোপযোগী মনে করছেন। জাহাজ দুটি আরো কয়েক বছর ব্যবহার করতে পারব বলেও তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় উঠে এসেছে।

বুধবার সকালে ফেরি ডোবার সংবাদ পেয়েই ৪৫ মিনিটের মধ্যে ঘাটে পৌঁছে যায় হামজা। কিন্তু এত কম সক্ষমতায় ফেরি তোলা সম্ভব না হওয়ায় ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন তোলার কাজে ব্যবহার করা হয় হামজাকে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) তথ্যমতে, ডুবে যাওয়া ফেরি আমানত শাহর ওজন খালি অবস্থায় ৪৪৮ টন ও বোঝাই অবস্থায় ৮৮০ টন। কিন্তু উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ও রুস্তমের সম্মিলিত সক্ষমতা কাগজে-কলমে ১২০ টন হলেও বাস্তবে আরো কম। এমন অবস্থায় ফেরি উদ্ধার কীভাবে হবে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মিশা বণিক বার্তাকে বলেন, এ দুটি উদ্ধারকারী জাহাজ দিয়েই ডুবন্ত ফেরিটি উত্তোলন সম্ভব হবে।

২০১২ সালে উদ্ধারকারী জাহাজের তালিকায় যুক্ত হওয়া প্রত্যয় ও নির্ভীকের সক্ষমতা ২৫০ টন করে। নতুন-পুরনো চারটি জাহাজ মিলিয়ে বর্তমানে দেশের উদ্ধারকারী জাহাজের সক্ষমতা মোট ৬২০ টন। এদিকে দেশের নৌরুটে চলমান একেকটি যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী জাহাজের ওজন হয় দেড় থেকে তিন হাজার টন পর্যন্ত।

আমানত শাহ ফেরির উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক বলেন, এটি ঠিক যে প্রত্যয় এলেও ফেরিটি টেনে তোলা সম্ভব নয়। কারণ প্রত্যয়ের সক্ষমতা ২৫০ টন পর্যন্ত। আমাদের পরিকল্পনা হলো, আগে ট্রাকগুলো তুলব। তারপর ফেরিটি সোজা করব। তারপর এটি উদ্ধারকারী জাহাজ ও পুলিং পদ্ধতিতে টেনে তুলব। এজন্য কিছু সময় প্রয়োজন। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

এ প্রসঙ্গে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, উদ্ধারকারী জাহাজের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। আমরা দুই হাজার টন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি জাহাজ আনব। এটি অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।